কাশ্মিরে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত: ২ মাসে নিহত ৭৬, আহত ১১ হাজার
কাশ্মিরে দুই মাস ধরে চলা সহিংসতায় ৭৬ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৫০০ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের আইজি জাভেদ জিলানি। বেসরকারি মতে, আহতের সংখ্যা ১১ হাজারেরও বেশি।
রাজ্যটিতে গত ৮ জুলাই হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি নিহত হওয়াকে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় মৃত্যু মিছিল বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার অনন্তনাগ জেলার সিরহামদানে এক প্রতিবাদ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনী পেলেট বন্দুক থেকে ছররা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই নাসীর আহমেদ মীর (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। ওই ঘটনায় শতাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়।
নাসীর আহমেদের নিহত হওয়ার ঘটানায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তদন্ত দাবি করেছেন জম্মু-কাশ্মিরের সিপিআই (এম) রাজ্য সম্পাদক গুলাম নবী মালিক। তিনি ওই ঘটনায় প্রকৃত দোষীকে চিহ্নিত করে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তুলেছেন।
মঙ্গলবার শ্রীনগরে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি খালি বাঙ্কারে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অন্যত্র বিক্ষোভকারীরা ৫ টি মোটর সাইকেলে আগুন দেয়ার পাশাপাশি একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে।
ওইদিন উত্তর কাশ্মির থেকে শুরু করে দক্ষিণ কাশ্মির পর্যন্ত কমপক্ষে এক ডজন জাতীয়তা বিরোধী র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এসব র্যালিতে বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায় এবং ভারত বিরোধী স্লোগান দেয়।
অনন্তনাগের কুলগাম, সোপিয়ান জেলার জৈনপোরা, উত্তর কাশ্মিরের কাজিবাদ কুপওয়াড়া, বান্দিপোরাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ হয়। এছাড়া,ডাউনটাউন, সৌরা, পাদশাহিবাগ, নওগাম প্রভৃতি এলাকায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, হুররিয়াত নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নতুন করে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বনধ কর্মসূচি বাড়িয়েছে। এরমধ্যে ঈদুল আজহাতে বিশেষ কর্মসূচিসহ বিভিন্ন দিনে ‘আজাদি মার্চ’, ‘আজাদি কনভেনশন’, জাতিসংঘ কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান ইত্যাদির ডাক দেয়া হয়েছে। সেখানে একটানা দুই মাস ধরে বনধ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কারফিউ, ১৪৪ ধারা ইত্যাদির মতো নিষেধাজ্ঞা থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/৭