কারফিউয়ে মোড়া রক্তাক্ত কাশ্মির: ড্রোনে নজরদারি, ঈদের খুশি ম্লান
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে আজ ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অশান্তি সৃষ্টি না হয় সেজন্য রাজ্যের ১০টি জেলাতেই কারফিউ জারি করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে নজরদারি চালাতে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে ড্রোন এবং চপার হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে।
১৯৯০ সাল থেকে রাজ্যটিতে সহিংস আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ঈদের দিন গোটা কাশ্মির কারফিউয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বিগত ২৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ এবং হজরতবালে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন। যদিও সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় মসজিদে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি রয়েছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিএসএনএল পোস্ট-পেইড কানেকশন ছাড়া সমস্ত নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট পরিষেবা ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা এবং পুলিশকর্মীরা বিএসএনএল পরিষেবা ব্যবহার করার জন্যই ওই পরিষেবা বন্ধ করা হয়নি। মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে গত জুলাই মাস থেকে। প্রয়োজনে ল্যান্ডলাইনে ইন্টারনেটও বন্ধ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে।
হুররিয়াত কনফারেন্সের পক্ষ থেকে আজ ঈদের দিন ‘আজাদি যাত্রা’ এবং জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষকের দফতরের দিকে মিছিলের ডাক দেয়া হয়েছে।
রাজ্যটিতে নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে প্রতিবাদী জনতার মধ্যে সংঘর্ষে গত দুই মাসে প্রায় ৮০ জন নিহত এবং ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। পেলেটগানের ছররা গুলিতে শতাধিক যুবকের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে। আহত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। রাজ্যে তরুণ-যুবকদের মৃত্যু মিছিল বাড়তে থাকায় ঈদের খুশি সেখানে ম্লান হয়ে গেছে।
যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব রাজীব মেহর্ষি দাবি করেছেন,‘কাশ্মির স্বাভাবিক হচ্ছে। আমরা আশা করছি শান্তিতেই কাটবে ঈদ।’
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৩