কাশ্মিরে অচলাবস্থা অব্যাহত, এবার গ্রেফতার ‘দুখতারান-ই মিল্লাত’ প্রধান আসিয়া
-
‘দুখতারান-ই মিল্লাত’ প্রধান আসিয়া আন্দ্রাবি
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ৮৮ দিন ধরে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই ‘দুখতারান-ই মিল্লাত’ প্রধান আসিয়া আন্দ্রাবি ও তার বিশেষ সহযোগী ফাহমিদা সোফিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিশেষ তথ্যের ভিত্তিতে শ্রীনগরের ক্রাল খুদা এলাকা থেকে মঙ্গলবার তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
আসিয়া আন্দ্রাবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় তিনি যুবকদের পাথর ছুঁড়তে উসকানি দিয়েছেন। পুলিশের এক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা থাকার কথা জানিয়েছেন। তার গ্রেফতারের ফলে উপত্যাকার পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে পুলিশ মনে করছে।
দুখতারান-ই মিল্লাতের সাধারণ সম্পাদক নাহিদা নাসরিন অবশ্য তার গ্রেফতারিতে ‘আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে না’ বলে জানিয়েছেন।
আসিয়া আন্দ্রাবি কাশ্মিরে আন্দোলনরত শীর্ষস্থানীয় নেত্রী। পাকিস্তান সমর্থক হিসেবে পরিচিত আসিয়ার জন্ম ১৯৬২ সালে। শ্রীনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন। তার বড় ছেলে মুহাম্মদ বিন কাশিম মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে আহমদ বিন কাশিম মালয়েশিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন।
পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলনের দায়ে গতবছর ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ আসিয়াকে গ্রেফতার করেছিল। আন্দ্রাবি অবশ্য সে সময় সরকারের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছিলেন, ‘ওরা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে কিন্তু আমাদের অনুভূতিকে নয়। পাকিস্তানি পতাকা তোলা নতুন কিছু নয়, ভবিষ্যতেও তা তোলা হবে।’
কাশ্মিরে গত ৮৮ দিন ধরে যানবাহন, অফিস, আদালত,স্কুল-কলেজ সবই প্রায় বন্ধ। সরকারিভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা, কিন্তু সেখানে শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত। বহু স্কুলে নিরাপত্তাবাহিনীর শিবির স্থাপন করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা আইনের ধারায় গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ৩০০ জন। এই আইনে এক বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখা যায়। প্রতিবাদী যুবকদের ধরপাকড় করে তাদের জম্মুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যরা ধৃতদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। চলমান আন্দোলনে প্রায় ৯০ জন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। আহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীরও প্রায় ৩ হাজার জওয়ান রয়েছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৫