কাশ্মির সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তানের আলোচনায় বসা উচিত: ফারুক আবদুল্লাহ
-
ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘কাশ্মির সমস্যা সমাধানে ভারত-পাক আলোচনার টেবিলে বসা উচিত।’ গতকাল (শুক্রবার) রাজ্যের বিরোধীদলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মিরের শান্তি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সমস্যা সমাধানে ভারত-পাকিস্তানের আলোচনার টেবিলে বসা উচিত। আলোচনার মাধ্যমেই কাশ্মির সমস্যার সমাধান হবে। যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়।‘
সাবেক বিজেপি প্রধান অটলবিহারী বাজপেয়ীর ২০০২ সালে কাশ্মির সফরের কথা উল্লেখ করে ফারুক বলেন, বাজপেয়ী বলেছিলেন, ‘বন্ধু পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশি নয়’।
কাশ্মিরের চলমান অশান্ত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘গত ৯৮ দিনে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী বেপরোয়াভাবে পেলেট বন্দুক ব্যবহার করেছে। যার ফলে এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। প্রচুর কিশোর এবং তরুণ দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে যারা এ জন্য দায়ী, তাদের চিহ্নিত করতে হবে।’
অন্যদিকে, কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এদিন বিধানসভায় বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলের নেতারা।
ফারুক আবদুল্লাহ’র বাসভবনে ওই বৈঠকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের পাশাপাশি, সিপিআই(এম), কংগ্রেস, পিডিএফ, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ন্যাশনালিস্ট এবং আওয়ামী ইত্তেহাদ পার্টির নেতাদের ডাকা হয়েছিল।
কাশ্মিরে চলমান সহিংসতা ও ভারত-পাক উত্তেজনার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে বিভিন্ন বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ওই প্রচেষ্টাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, হুররিয়াত কনফারেন্সের পক্ষ থেকে শুক্রবার জম্মু-কাশ্মিরের গভর্নর এন এন ভোরার উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, “এটা আপনার নৈতিক দায়িত্ব ভারত সরকারকে জানানো যে, কাশ্মিরকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে স্বীকার করে নিয়ে তার রাজনৈতিক সমাধান খোঁজা। সামরিক শক্তি দিয়ে এর সমস্যার সমাধান হবে না তা বিগত সাত দশক ধরে বারবার প্রতীয়মান হয়েছে।”
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে যুদ্ধ হয়েছে, “হাজারো প্রাণহানি হয়েছে, রক্ত ঝরেছে কিন্তু তা কোনো উপকারে আসেনি। কাশ্মির সমস্যা সমাধান না হওয়ায় গোটা এলাকা ভয়, অনিশ্চয়তা এবং অবিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে।”
কাশ্মিরের মানুষদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ে গণভোটই একমাত্র সঠিক উপায় বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৫