ভারতে ৫০০ ও ১০০০ নোট বাতিল: পেট্রাপোল-বেনাপোলে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ভারতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ার প্রভাব পড়ল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার বনগাঁর পেট্রাপোল সীমান্তে। আজ (বুধবার) বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে আসা যাত্রীরা পেট্রাপোল সীমান্তে ভোগান্তির মুখে পড়েন। একইসঙ্গে এখানকার ব্যবসায়ীরাও মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আজ বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে পেট্রাপোলে আসা যাত্রীরা ডলার অথবা বাংলাদেশের টাকা ভাঙাতে গিয়ে অসুবিধার সম্মুখীন হন। কারণ, এখানকার মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট দেয়ার কথা বলা হলে তারা তা নিতে চাননি। মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলো থেকে সাধারণত বড় অঙ্কের নোটই দেয়া হয়। পরবর্তীতে যাত্রীরা তা অন্য জায়গায় ভাঙিয়ে নিয়ে থাকেন।
বুধবার পেট্রাপোলের লক্ষ্মীনারায়ণ এয়ার ট্রাভেল লিমিটেডের ম্যানেজার আশিস দে বলেন, ‘পেট্রাপোলে কমপক্ষে একশ’ মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বুধবার সকাল থেকে বাংলাদেশ থেকে আসা যাত্রীরা টাকা এবং ডলার ভাঙাতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন। বেশিরভাগ মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে ৫০০/১০০০ টাকার নোট থাকায় তাদের খুচরা টাকা দেয়া যায়নি। অন্যদিকে, যাত্রীরা ওই বড় নোট নিতে চায়নি। কারণ, তারা আগে থেকেই ৫০০ এবং ১০০০ টাকা বাতিল হওয়ার কথা জানেন। পরিস্থিতি আঁচ করে বাংলাদেশের অনেক যাত্রী অভিবাসন দফতর থেকে দেশে ফিরেও গেছেন।’
বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা দেবাশীস বিশ্বাস জানান, "এখানকার কাউন্টারগুলোতে কোনো টাকা নেই। মাত্র ২০০ টাকার বেশি দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় আমরা বাস, ট্রেন এবং অটো ভাড়া কিভাবে দেব সেই চিন্তায় আছি। আমরা আমাদের গন্তব্যস্থলে পৌছাব কী করে তাই ভাবছি।"
রমনি মোহন বিশ্বাস নামেও এক যাত্রী পেট্রাপোল মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত খুচরা টাকা না থাকায় সমস্যার কথা জানান।
বুধবার বিকেলে মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায়ী আশিস দে জানান, "সকাল থেকে আমরা কার্যত মাছি তাড়াচ্ছি। ব্যবসার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ভারতে ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের যাত্রীরা এখানে আসতে অসুবিধায় পড়ছেন। কোনো কোনো মুদ্রা ব্যবসায়ী কেন্দ্র থেকে সীমিত সংখ্যক লোকজনকে মাত্র ২০০ টাকা করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই টাকায় তারা কীভাবে পথ চলবেন সেটিই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কবে এই সমস্যা দূর হবে কে জানে।"
ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দৈনিক কয়েক হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে অনেকেই কোলকাতা, চেন্নাই এবং অন্যত্র চিকিৎসার জন্য যান। বাংলাদেশী যাত্রীরা এপার বাংলায় অনেক আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর জন্যও এসে থাকেন। কিন্তু ৫০০/১০০০ টাকার নোট বিভ্রাটের জেরে তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। মাথায় হাত ব্যবসায়ীদেরও।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯