মন্ত্রীদের উত্তেজক বিবৃতির ফলে কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলা বাড়ছে: ওমর আবদুল্লাহ
-
ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের উত্তেজক বিবৃতির ফলে কাশ্মিরে সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ।
আজ (শুক্রবার) গণমাধ্যমে প্রকাশ, দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘পাক অধিকৃত কাশ্মিরে লক্ষ্যপূর্ণ হামলা চালানোর পরে আমরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দেয়া বিবৃতির ফল ভোগ করছি। যদি আমাদের শাসকরা হামলা করার পরে চুপ থেকে মুখে বলার চেয়ে তারা নিজেদের কাজ করতেন তাহলে আজ পরিস্থিতি এ রকম হতো না।’
ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘পাকিস্তান ভারতের দিকে তাকাতে সাহস করবে না এবং নোট বাতিলের পরে সন্ত্রাসবাদ শেষ করে দিয়েছি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের এ ধরণের মন্তব্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন যদি পাকিস্তান আমাদের দিকে তাকায় তাহলে তাদের চোখ তুলে তাদের হাতে দেব, তো এতে অবশ্যই কোনো না কোনো প্রতিক্রিয়া হবে।’ মন্ত্রীদের তাদের কাজের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত এবং বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কথা বলার দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া উচিত বলেও ওমর মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি গোয়ায় এক জনসভায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকার বলেন, ‘ ভারত যুদ্ধপিপাসু নয়। কিন্তু কেউ যদি লাল চোখে এ দেশের দিকে তাকায়, তবে সেই চোখ উপড়ে ফেলে তাদের হাতে দেয়ার মতো ক্ষমতা আছে।’
ওই সময় ভারত-পাক সীমান্তে গুলি চলা বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘সীমান্তে শেষ তিনদিন কোনো গোলাগুলি চলেনি। কারণ, পাকিস্তান একবার গুলি চালালেই পাল্টা জবাবে দু’বার গুলিবর্ষণ করে তাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপযুক্ত জবাব পেয়ে এবার তারা পথে এসেছে।’
এর আগে মুম্বাইয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি জানান, ‘এতদিন নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার জন্য কাশ্মিরে বিক্ষোভকারীরা ৫০০ টাকা করে পেত। আর অন্য ধরনের কিছু কাজ করার জন্য ১০০০ টাকা করে দেয়া হতো। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদীদের ওই টাকার লেনদেনকেই শূন্যে নামিয়ে এনেছেন।’
নোট বাতিলের পর থেকে কাশ্মিরে পাথর ছোড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
মনোহর পারিকার এসব মন্তব্য করলেও সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের আক্রান্ত হওয়া এমন কী তাদের লাশ বিকৃত করারও অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে গত ২৯ নভেম্বর জম্মুর নগরোটায় সেনাশিবিরে গেরিলা হামলার জেরে কর্মকর্তাসহ ৭ সেনা জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ওইদিনেই সাম্বার রামগড় এলাকাতেও গেরিলারা হামলা চালায় বিএসএফ জওয়ানদের ওপর। উভয়পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময়ের সময় তিন গেরিলা নিহত ও এক সেনা সদস্য আহত হয়।
সম্ভবত এ জন্যই ওমর আবদুল্লাহ নোট বাতিলের ফলে সন্ত্রাসী তৎপরতা বন্ধ হওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২