‘কাশ্মিরি যুবককে 'মানব-ঢাল' বানানো সেনা কর্মকর্তাকে পুরস্কারে উত্তেজনা বাড়বে’
https://parstoday.ir/bn/news/india-i38526-কাশ্মিরি_যুবককে_'মানব_ঢাল'_বানানো_সেনা_কর্মকর্তাকে_পুরস্কারে_উত্তেজনা_বাড়বে’
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে এক যুবককে মানব ঢাল করে বেঁধে ঘোরানো কর্মকর্তা লিতুল গোগৈকে পুরস্কার দেয়ায় উত্তেজনা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জেডিউ নেতা শারদ যাদব এবং সিপিআই নেতা ডি রাজা।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ২৩, ২০১৭ ১৫:৪০ Asia/Dhaka
  • মেজর লিতুল গোগৈকে ‘কমেন্ডেশন কার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করায় উত্তেজনা বাড়বে: শারদ যাদব
    মেজর লিতুল গোগৈকে ‘কমেন্ডেশন কার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করায় উত্তেজনা বাড়বে: শারদ যাদব

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে এক যুবককে মানব ঢাল করে বেঁধে ঘোরানো কর্মকর্তা লিতুল গোগৈকে পুরস্কার দেয়ায় উত্তেজনা বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন জেডিউ নেতা শারদ যাদব এবং সিপিআই নেতা ডি রাজা।

গতকাল (সোমবার) ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত মেজর লিতুল গোগৈকে ‘কমেন্ডেশন কার্ড’ দিয়ে পুরস্কৃত করেছেন।

গত ৯ এপ্রিল ফারুক দার (২৬) নামে এক যুবককে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে বেঁধে ওই সেনা কর্মকর্তা ঘুরিয়েছিলেন।

আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেডিইউ নেতা শারদ যাদব বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই এ ধরণের পদক্ষেপে কাশ্মিরের পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে। ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার পর পুরস্কৃত করা যেতে পারতো।

সিপিআই নেতা ডি রাজা বলেছেন,‘এটা উসকানিমূলক পদক্ষেপ। এরফলে মানুষের মধ্যে বিচ্ছিন্নতাবোধ বাড়বে এবং রাজ্যের পরিস্থিতি আরো অবনতি হবে।’

এদিকে, নিগৃহীত কাশ্মিরি যুবক ফারুক দার বলেছেন, ‘আমি স্রেফ একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই, আমি কী কোনো পশু ছিলাম যে আমাকে গাড়ির সামনে বেঁধে ঘোরানো হবে? আমি কী কোনো মহিষ বা বলদ ছিলাম?’ 

তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘যদি ভারতীয় আইনে এটা বৈধ হয় তাহলে আমি কী বলতে পারি! আমি তাদের সঙ্গে লড়তে চাই না যারা ওই কর্মকর্তাকে সম্মানিত করেছেন।’

ন্যাশনাল কনফারেন্স মুখপাত্র জুনায়েদ মাট্টু বলেছেন, ‘আদালতের রায়েরও অপেক্ষা না করে এমন এক ব্যক্তিকে সম্মানিত করা হয়েছে যিনি কাউকে মানব ঢাল করার মতো বিচিত্র কাজ করেছিলেন। এটা কী সভ্য সমাজে হতে পারে?’ 

গত ১৫ এপ্রিল ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সেনাবাহিনীর নিজস্ব আদালত। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশও সেসময় এফআইআর করে তদন্ত শুরু করে।

আজ রাজ্য পুলিশের আইজি মুনীর খান অবশ্য বলেছেন এখনো লিতুল গগৌয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

কাশ্মিরের বাডগামের সিতাহরন গ্রামের বাসিন্দা ফারুক দারকে গত ৯ এপ্রিল সেনাবাহিনীর জিপের বনেটে বেঁধে ৯টি গ্রামে ঘোরানোসহ মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সেখানে পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় ফারুককে।

মেজর নীতীন লিতুল গগৈ ওই ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা জানানো হয়। কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলি থেকে শুরু করে অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি সকলেই সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

ওই ঘটনায় মেজর লিতুল গোগৈ সাফাই দিয়ে বলেছিলেন, সে সময় তার দায়িত্ব ছিল উত্তেজিত জনতার হাত থেকে তার দলের সদস্যদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/২৩