সেনাবাহিনী দিয়ে কাশ্মির সমস্যার সমাধান হবে না, সংলাপ জরুরি: মেহেবুবা
-
জম্মু কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবেুবা মুফতি (ফাইল ছবি)
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতি সেখানকার চলমান অশান্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন, বন্দুকের শক্তি দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। মেহেবুবা আজ (শনিবার) বিধানসভায় বলেন, ‘আমাদের সৈনিক মারা যাচ্ছে। আপনারা বন্দুক দিয়ে, সেনাবাহিনী দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। সংলাপের মাধ্যমেই কেবল সমস্যার সমাধান হতে পারে।’
আজ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
মেহেবুবা বলেন, ‘আমরা পেরেশান, আমাদের সৈনিকরা মারা যাচ্ছে। আজ উভয়পক্ষকেই অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কাশ্মিরিদের অসুবিধা দূর করতে আমাদের একসঙ্গে বসতে হবে। যখন আমরা একসঙ্গে চলব তখনই আমরা এগিয়ে যেতে পারবো।’
তিনি বলেন, ’৬৫ ও ’৭১ সালের যুদ্ধে কী লাভ হয়েছে? যুদ্ধে উভয়পক্ষের গরীব মানুষরা মারা যায়। কাশ্মির ইস্যু নিয়ে যতিদিন আমরা একসঙ্গে না বসবো এবং সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কথা না বলব ততদিন সমস্যার সমাধান হতে পারে না।’
এদিকে, কাশ্মিরে সম্প্রতি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দু’জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আজ সেখানে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে। হুররিয়াত কনফারেন্সের প্রধান সাইয়্যেদ আলি শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের পক্ষ থেকে ওই বনধের ডাক দেয়া হয়।
আজ বনধের ফলে সাধারণ জনজীবনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। সেখানকার দোকানপাট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সড়কে গণপরিবহন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে।
আজ বনধকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এম আর গঞ্জ, নৌহাট্টা, খানইয়ার, রৈনাবাড়ি এবং সাফাকদল এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
আজ হুররিয়াতের পাশাপাশি কাশ্মির ট্রেডার্স অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে রাজ্যে প্রস্তাবিত দ্রব্য ও পরিষেবা কর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে বনধের ডাক দেয়া হয়।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গতকাল নিহত লস্কর ই তাইয়্যেবা কমান্ডার জুনাইদ মাট্টুসহ নাসির ওয়ানি এবং আদিল মুস্তাক মীরের লাশ আজ শনিবার সকালে দাফন করা হয়। আজ তাদের জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/জিএআর/১৭