আফরাজুলের হত্যা কলঙ্কজনক, ভারতীয় হিসেবে লজ্জা পাচ্ছি: ফিরহাদ হাকিম
-
আফরাজুল হত্যার প্রতিবাদে কোলকাতায় তৃণমূলের মিছিল
ভারতের বিজেপিশাসিত রাজস্থানে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম শ্রমিক আফরাজুল খানের হত্যাকে 'কলঙ্কজনক ঘটনা' বললেন রাজ্যের পৌর ও নগরন্নোয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। আজ (শনিবার) তিনি মালদহে সাংবাদিকদের কাছে ওই মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘ভারতের নাগরিক হিসেবে আমাদের সকলের লজ্জা পাচ্ছে যে, এ ধরণের ঘটনা ভারতে হতে পারে ভেবে! আমরা নিহতের পরিবারের পাশে আছি। তিনি (আফরাজুল) বাংলার মানুষ হওয়ায় আমাদের আরো বেশি দুঃখ যে এরকম একটা ঘটনা রাজস্থানে হল। গোটা ভারত জুড়ে যারা এসব করছে তাদেরকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানাচ্ছি।’
আফরাজুলের বাড়িতে ৩ মন্ত্রী-এমপি
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আজ মালদহের কালিয়াচক থানার সৈয়দপুরে আফরাজুলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে যান ফিরহাদ হাকিম, সৌগত রায় এমপি এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি। তারা ওই পরিবারের হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত আর্থিক সাহায্য তুলে দেন।
মুখ্যমন্ত্রী গতকালই ওই পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের একজনকে চাকরি দেয়াসহ অন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য দেয়ার কথা ঘোষণা করেন।
আফরাজুলের হত্যার ঘটনাকে অত্যন্ত অমানবিক বলে অভিহিত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার নির্মাণশ্রমিক আফরাজুলকে সম্প্রতি বিজেপিশাসিত রাজস্থানে কুপিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পাশবিক ওই ঘটনার ভিডিও ছবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই গোটা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
'এমন দৃশ্য ভারতবাসী কখনো দেখেনি'
ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার রাজপথে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মোমবাতি জ্বালিয়ে ধিক্কার মিছিল করা হয়। প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়ে রাজ্য তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমপি বলেন, ‘এমন নিষ্ঠুর, নির্মম, বেদনাদায়ক, দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এমন দৃশ্য ভারতবাসী কখনো দেখেনি। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এ থেকে প্রমাণিত রাজস্থানে আইনের শাসন নেই। সেখানে দুর্বৃত্তরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
আরএসএস 'ভারতীয় আইএসএস'
পশ্চিমবঙ্গের ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র পক্ষ থেকেও গতকাল সন্ধ্যায় বিশিষ্ট সমাজকর্মীদের উপস্থিতিতে কোলকাতায় অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টসের সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও পোস্টার-ব্যানার প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানানো হয়। ভাষা ও চেতনা সমিতির সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইনামুল হকের উদ্যোগে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আরএসএসকে 'ভারতীয় আইএসএস' বলে অভিহিত করে আরএসএস ও বজরং দলের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৮