পশ্চিমবঙ্গে রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোদিকে চিঠি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i57014-পশ্চিমবঙ্গে_রোহিঙ্গাদের_বসতি_স্থাপনে_উদ্বেগ_প্রকাশ_করে_মোদিকে_চিঠি
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসতি স্থাপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ও দার্জিলিংয়ের এমপি সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
মে ০৯, ২০১৮ ১০:২৮ Asia/Dhaka
  • নরেন্দ্র মোদি ও সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া
    নরেন্দ্র মোদি ও সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বসতি স্থাপনে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ও দার্জিলিংয়ের এমপি সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের কিছু স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের স্পর্শকাতর এলাকায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে আলুওয়ালিয়া বলেন, দার্জিলিং ও ডুয়ার্স এলাকা আন্তর্জাতিক সীমান্তের খুব কাছে। ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার জরিপে জানা গেছে, ডেলোর আশেপাশের এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য ৫০টি বাড়ি স্থাপন করা হয়েছে। লাভা বনভূমি এলাকায় ১৪০টি এবং মেল্লি থেকে রংপো মহাসড়ক এলাকায় কমপক্ষে ১৩০টি বাড়ি স্থাপন করা হয়েছে। এস এস আলুওয়ালিয়া এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন জানিয়েছেন। 

ভারতে আশ্রিত একটি রোহিঙ্গা পরিবার

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাবেক প্রধান বিমল গুরুং এক বিবৃতিতে বলেন, তার কাছে দলের আঞ্চলিক কর্মীদের মারফত খবর পৌঁছেছে যে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়-সমতলের কিছু এলাকায় অপরিচিত লোকজন বাস করা শুরু করেছেন। তারা হিন্দি ভাষাও ভালো করে বলতে পারেন না। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বললেও কিছু রাজনৈতিক দল জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। তার আশঙ্কা, কোনো রাজনৈতিক দল ভোট ব্যাংক বাড়াতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বার্তা দিয়েছেন।

গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সাবেক প্রধান বিমল গুরুং

'রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে বিজেপি আক্রমণের নিশানা'

এ প্রসঙ্গে আজ (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রশ্ন হল আন্তর্জাতিক প্রশ্ন। গোটা পৃথিবী দেখেছে মিয়ানমারের ফ্যাসিস্ট সরকার দানবিক অত্যাচার চালানোর ফলে তাদের অনেকেই বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বহু আগে থেকেই জাতিসংঘের শরণার্থী পরিচয়পত্র সম্বলিত ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আমাদের দেশে আছেন। ভারত হল, ‘দিবে আর নিবে, মেলাবে মিলিবে। যাবে না ফিরে’ –এটাই হচ্ছে ভারতবর্ষ।

ছোটন দাস

ছোটন দাস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ১৪ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে কেউ যদি আমাদের দেশে আশ্রয় নেয় এবং যেখান থেকে তিনি এসেছেন সেখানে তাদের ফিরিয়ে দিলে জীবন বিপন্ন হয়, তাহলে তাদের ফিরিয়ে দেয়া যাবে না। পুশব্যাক করা যাবে না। ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সনদে ভারত সরকার সই করেছে। ফলে রোহিঙ্গারা ভারতে আছেন। আর শুধু রোহিঙ্গারা কেন, তিব্বতিরা আছেন। সরকার তাদের অর্থ দিয়ে, ভর্তূকি দিয়ে থাকে। গত বছরে তাদের জন্য কমপক্ষে একশ’ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। রোহিঙ্গারা আগে থেকেই আছেন। এখন বিমল গুরুং বলছেন, তারা ভালো হিন্দি বলতে পারেন না। পশ্চিমবঙ্গে থাকতে গেলে কী হিন্দি জানতেই হবে নাকি? এটা তো সংবিধান বিরোধী কথা! দ্বিতীয়ত, যেকোনো ভাষাভাষীর মানুষ পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের যেকোনো জায়গায় থাকতে পারেন।’

ছোটন বাবু বলেন, ‘আসলে যেটা কারণ, রোহিঙ্গারা যেহেতু মুসলিম সেজন্য তাদের আক্রমণের নিশানা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দিল্লিতে তাদের শরণার্থী ক্যাম্প আরএসএস এবং বিজেপি’রা পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা তা গর্বের সঙ্গে স্বীকার করেছেন। সেই জায়গা থেকে এস এস আলুওয়ালিয়া এসব কথা বলছেন। আলুওয়ালিয়ার নির্বাচনী পার্টনার হলেন বিমল গুরুং। রোহিঙ্গারা এদেশে শরণার্থী হিসেবে আছেন এবং সুপ্রিম কোর্টও বলেছে তাদের ডিস্টার্ব করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভাজন ঘটানোর জন্য যে কুৎসিত রাজনীতি আর এস এস-সঙ্ঘপরিবার-বিজেপি’র, সেটাই চেষ্টা হচ্ছে।’#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৯