জম্মু থেকে অবৈধ রোহিঙ্গা ও কথিত বাংলাদেশিদের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ
ভারতের জম্মুতে অবৈধভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ও কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে 'জম্মু ও কাশ্মির ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টি' (জেকেএনপিপি)। দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী হর্ষদেব সিংয়ের নেতৃত্বে গতকাল (রোববার) জম্মুর এগজিবিশন গ্রাউন্ডে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
জেকেএনপিপি সমর্থকরা এসময় ‘ছাড়ো আমাদের জম্মু প্রদেশ, রোহিঙ্গারা যাও বাংলাদেশ’ বলে স্লোগান দেয়। জেকেএনপিপি চেয়ারম্যান হর্ষদেব সিং বলেন, ‘জম্মু শহর ও আশপাশের এলাকায় মিয়ানমার ও বাংলাদেশের বাসিন্দারা বাস করছেন। তাদের চিহ্নিত করাও হয়েছে। অবিলম্বে জম্মু-কাশ্মির থেকে তাদের দেশে ফেরানোর দাবি জানাচ্ছি।’
বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে হর্ষদেব সিং বলেন, ‘কেবলমাত্র বিবৃতি না দিয়ে সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিক। সরকার যেন জাতীয়তাবাদী ডোগরাদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়। রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে হবে। অন্যথায় ভয়ানক পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এবং আদি বাসিন্দা ও অবৈধ বিদেশিদের মধ্যে বিবাদের ফলে রাজ্যের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ভেঙে পড়বে।’
জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার অবৈধ অভিবাসীদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছে অভিযোগ করে হর্ষদেব সিং বলেন, ‘পিডিপি-বিজেপির সরকারের সময়ে ওইসব বিদেশির জন্য বেআইনিভাবে বসতি তৈরি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী নাগরিক হিসেবে বসবাসের শংসাপত্র, রেশন কার্ড, আধার কার্ড, বিদ্যুৎ সংযোগ, বিনামূল্যে খাওয়ার পানি পরিসেবা দেয়া হয়েছে।’ রাজ্যের সাবেক কংগ্রেস ও ন্যাশনাল কনফারেন্স জোট সরকার জম্মু-কাশ্মিরে অবৈধ অভিবাসীদের বাস করার ব্যবস্থা করেছিল বলেও হর্ষদেব সিং অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার ধারণার বিরুদ্ধে। তারই সহযোগী শক্তি হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন শক্তি ও রাজনৈতিক দল ওই দাবিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। জম্মুতেও প্যান্থার্স পার্টি সেই কর্মসূচি রূপায়ন করছে। এটা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিরোধী। ভারতে আগে বৌদ্ধরা এসেছে, তিব্বতিসহ অন্যরা এসেছেন। ‘দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে’র সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচারন করছে সঙ্ঘ পরিবার ও তার সহযোগীরা। এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তি নিশ্চিতভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে এবং দাঁড়াবে।’
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (সোমবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি-আরএসএস পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার ধারণার বিরুদ্ধে। তারই সহযোগী শক্তি হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন শক্তি ও রাজনৈতিক দল ওই দাবিকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। জম্মুতেও প্যান্থার্স পার্টি সেই কর্মসূচি রূপায়ন করছে। এটা আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও ভারতের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির বিরোধী। ভারতে আগে বৌদ্ধরা এসেছে, তিব্বতিসহ অন্যরা এসেছেন। ‘দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে’র সংস্কৃতির বিরুদ্ধাচারন করছে সঙ্ঘ পরিবার ও তার সহযোগীরা। এর বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তি নিশ্চিতভাবে রুখে দাঁড়াচ্ছে এবং দাঁড়াবে।’
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৫
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন