কম্পিউটারের ওপর ভারত সরকারের নজরদারি: ক্ষুব্ধ বিরোধী নেতারা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i66756-কম্পিউটারের_ওপর_ভারত_সরকারের_নজরদারি_ক্ষুব্ধ_বিরোধী_নেতারা
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের দশটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দেশের মধ্যে অবস্থিত যেকোনো কম্পিউটার ও ল্যাপটপের ওপরে নজরদারি করতে পারবে বলে যে নির্দেশ জারি করেছে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। স্মার্টফোনগুলো কার্যত কম্পিউটার হওয়ায় সেগুলোও নজরদারির আওতায় থাকবে।
(last modified 2026-01-18T14:26:52+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০১৮ ১৪:৫৭ Asia/Dhaka
  • কম্পিউটারের ওপর ভারত সরকারের নজরদারি: ক্ষুব্ধ বিরোধী নেতারা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের দশটি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা দেশের মধ্যে অবস্থিত যেকোনো কম্পিউটার ও ল্যাপটপের ওপরে নজরদারি করতে পারবে বলে যে নির্দেশ জারি করেছে তার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। স্মার্টফোনগুলো কার্যত কম্পিউটার হওয়ায় সেগুলোও নজরদারির আওতায় থাকবে।

গত (বৃহস্পতিবার) জারি করা সরকারি নির্দেশের ফলে এখন থেকে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি) এবং রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র), নারকোটিকস কন্ট্রোল বোর্ড, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি), সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডিরেক্ট ট্যাক্সেস, ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স, সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই), ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), দিল্লি কমিশনার অব পুলিশ এবং ডিরেক্টরেট অব সিগনাল ইন্টেলিজেন্সকে দেশের যেকোনও প্রান্তে, যে কোনও সময়ে, যে কোনও কম্পিউটার বা ল্যাপটপে নজরদারি চালাতে পারবে।

উল্লেখিত প্রত্যেকটি এজেন্সির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই সবরকম সহযোগিতা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা করতে বাধ্য। অন্যথায় সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে।

রাহুল গান্ধী

প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসলে যে ভীত একনায়ক, তা দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল।’

কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, ‘ওই নির্দেশের ফলে ভারতকে নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত করছে। এটি মৌলিক অধিকার ও গোপনীয়তার অধিকারের ওপরে চূড়ান্ত আক্রমণ। ওই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপরেও হস্তক্ষেপ করে, কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, গোপনীয়তা একটি মৌলিক অধিকার। সরকার  গায়ের জোরে এই নির্দেশ কার্যকর করছে। আমরা দলমত নির্বিশেষে এর বিরোধিতা করছি।’

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সূর্যেওয়ালা বলেছেন, ‘মোদি সরকার খোলাখুলিভাবে গোপনীয়তা রক্ষার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করছে। (পাঁচ রাজ্যে) নির্বাচনে হেরে এখন সরকার চাচ্ছে আপনার কম্পিউটারের ওপর নজরদারি করতে!’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘আমি চিন্তিত। সাধারণের কম্পিউটারে নজরদারি চালানো হবে। ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যবসায়িক তথ্য কি দিয়ে দেবেন? কারও কি ব্যক্তি স্বাধীনতা থাকবে না?’

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন,  দেশের মানুষদের সঙ্গে কি সরকার অপরাধীর মতো আচরণ করবে!  দেশের প্রত্যেকটি মানুষের পেছনে গোয়েন্দাগিরি করার ব্যবস্থা একেবারেই অসাংবিধানিক। সরকারের ওই নজরদারির নির্দেশ অসাংবিধানিক এবং টেলিফোন ট্যাপিং নিয়মাবলী, গোপনীয়তা সংক্রান্ত রায় এবং আধার কার্ড সংক্রান্ত রায়ের বিরোধী।’

মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি’র কটাক্ষ, ‘কে জানত, ওরা আসলে ‘ঘর ঘর মোদি’ বলতে এটাই বোঝাতে চেয়েছিল!’

আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের জন্য প্রথম দিন থেকেই নানা প্রক্রিয়া নিয়েছে। এই কবজায় নেয়ার একটা নতুন প্রয়াস হচ্ছে এভাবে সমস্ত কিছুর অধিকার, সেটার উপরে সরকারি নজরদারি চলবে সেজন্য সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছে। ভারতের মানুষ নিজেদের মৌলিক অধিকার বিসর্জন হতে দেবেন না। পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পরেও মোদি বোঝেননি যে মানুষ তাদের নীতিগুলোকে গ্রহণ করছেন না। লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মানুষ এ ধরণের অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে রায় দেবেন।’

অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের দাবি, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই এমন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২