সিবিআই হানাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র-রাজ্য তীব্র সংঘাত, ধর্না-অবস্থানে মমতা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i67838-সিবিআই_হানাকে_কেন্দ্র_করে_কেন্দ্র_রাজ্য_তীব্র_সংঘাত_ধর্না_অবস্থানে_মমতা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কমিশনারের বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) হানাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল (রোববার) রাত থেকে কোলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না-অবস্থানে বসেছেন।  
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০১৯ ০৯:০৪ Asia/Dhaka
  • ধর্না-অবস্থানে মমতা বন্দোপাধ্যায়
    ধর্না-অবস্থানে মমতা বন্দোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ কমিশনারের বাসায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) হানাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সংঘাত চরমে উঠেছে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল (রোববার) রাত থেকে কোলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধর্না-অবস্থানে বসেছেন।  

লোকসভা নির্বাচনের মুখে এভাবে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তৎপরতাকে ‘দেশে সুপার এমারজেন্সি চলছে’ বলে মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,  সংবিধানকে রক্ষার স্বার্থে, গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে রক্ষা করার জন্য আমি ধর্নায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিজেপি রাজ্যে প্রেসিডেন্টের শাসন জারির ষড়যন্ত্র করছে বলে মমতা অভিযোগ করেছেন। 

মমতার অবস্থানকে সমর্থন করে ফোন করেছেন কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা আহমেদ প্যাটেল, ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ডা. ফারুক আব্দুল্লাহ, জম্মু-কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ,  সপা নেতা অখিলেশ যাদব, বসপা নেত্রী মায়াবতী। মমতার সমর্থনে টুইট করেছেন অন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রমুখ।

কোলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার

কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই কর্মকর্তাদের একটি দল গতকাল (রোববার) সন্ধ্যায় কোলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের সরকারি বাসভবনে ঢুকতে গেলে কোলকাতা পুলিশের কর্মকর্তারা তাঁদের বাধা দেন। আগাম না জানিয়ে কমিশনারের বাড়িতে ঢোকা যায় না বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন। এরপরেই সিবিআই কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তাদের তুমুল ধস্তাধস্তি ও বচসা হয়। এক পর্যায়ে সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় কোলকাতা পুলিশ। পরে অবশ্য তাঁদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাতেই কোলকাতার সিবিআই দফতরে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোদি-অমিত শাহ জুটি সিবিআইকে দিয়ে রাজ্যে অভ্যুথানের চেষ্টা চালাচ্ছে। নজিরবিহীন ওই ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  

আচমকা সিবিআই হানার তীব্র সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও'ব্রায়েন এমপি। আজ (সোমবার) ওই ঘটনার প্রতিবাদে তাঁরা সংসদে সোচ্চার হবেন বলে জানিয়েছেন।

সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে কেন্দ্রীয় বাহিনী

এর আগে গণমাধ্যমে খবর ছড়ায় সিবিআই কোলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে খুঁজছে। অর্থলগ্নি সংস্থা ‘সারদা’ ও ‘রোজভ্যালি’ দুর্নীতিতে কিছু হারানো নথির বিষয়ে কোলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সিবিআই জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। তাঁকে কয়েকদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও খবর ছড়ায়। কিন্তু কোলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে ওই খবরের সত্যতা অস্বীকার করে বিবৃতি দেয়া হয়।

অন্যদিকে, রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে তথ্য লোপাট করার প্রমাণ আছে বলে সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সিবিআই প্রধান এম নাগেশ্বর রাও।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘বিজেপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতারা সবচেয়ে খারাপ প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি।’

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কিছু লুকোবার চেষ্টা করছেন। সত্য প্রকাশ্যে আসবে, সেজন্য তিনি গায়ের জোরে তা চাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দিলীপ বাবু বলেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৪ 

খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন