অসমে ২ বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে নৃশংসভাবে হত্যা
-
নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া
ভারতের বিজেপিশাসিত অসমে শেখ ইদ্রিস আলী (৫২) ও শেখ মুহাম্মদ (৪৫) নামে দু’জন বাঙালি মুসলিম শ্রমিককে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া শেখ সোনা ও শেখ জহর নামে আরও দুই শ্রমিকের হাত কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল (রোববার) পুলিশের পক্ষ থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারকে খবর দেয়া হয়।
আহতরা শেখ ইদ্রিশ আলী ও শেখ মুহাম্মদকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিল। খবর পেয়ে দুমদুম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে এবং নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তে পাঠায়।
নিহত শ্রমিকরা পশ্চিমবঙ্গের পূর্বমেদিনীপুর জেলার পাশকুড়ার বাসিন্দা। তাঁরা মাস দেড়েক আগে অসমের তিনসুকিয়ার দুমদুমায় রাজমিস্ত্রির কাজ করার জন্য গিয়েছিলেন।
পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভি সোলোমন নেসাকুমার বলেন, শনিবার রাতে অসম থেকে খবর পেয়ে মৃত ও আহতদের বাড়িতে আমরা জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ঠিক কীভাবে খুন বা খুনের গতিপ্রকৃতি কী তা জানা যায়নি। তা জানার চেষ্টা চলছে।
নিহত শেখ মুহাম্মদের বড় ভাই আহমেদ আলী বলেন, ‘ওরা চারজন রান্না করছিল। সে সময় আচমকা তিন/চার জন এসে বাড়ি কোথায় জানতে চায়। বাঙালি বলতেই দুষ্কৃতীরা দুজনের গলা কেটে দেয়, আহত দুজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।’
এ প্রসঙ্গে আজ (সোমবার) অসমের বিশিষ্ট বিধায়ক ও কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা শেরমান আলী আহমেদ রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলছি, বিজেপি সরকার অসমে ও গোটা ভারতে সন্ত্রাসীর মতো তাঁরা রাজত্ব চালিয়েছেন। ওদের একটাই উদ্দেশ্য তাঁরা মানুষের রক্তমাখা হাত নিয়ে শাসনকাজ চালাতে চায়। হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান বিভিন্ন জাতির মধ্যে দাঙ্গা বাধিয়ে তাঁরা তাঁদের শাসনভার চালিয়ে যেতে চায়। ইদানিং তাঁরা বিভিন্ন ধরণের হিংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়েছে তা তিনসুকিয়ার ঘটনা প্রমাণিত করেছে। আর বিগত দিনে মোদির যেসব প্রতিশ্রুতি ছিল তা সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে এসব কাজে লিপ্ত হয়েছে বলে আমরা মনে করি।’আমরা দলীয়মঞ্চে আলোচনা করে ওই ইস্যুতে পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব এবং নিশ্চয় এর প্রতিবাদ হবে বলেও বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ বলেন।
গত নভেম্বরে অসমের তিনসুকিয়াতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা পাঁচ হিন্দু বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করেছিল। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ওই হত্যার ঘটনায় সেসময় জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। সেই ঘটনার জের না মিটতেই ফের বাঙালি হত্যার ঘটনা ঘটল অসমে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এমআরএইচ/১১
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন