রাফায়েল ইস্যুতে যারা চুরি করেছেন তাদের সাজা হবেই: রাহুল গান্ধী
-
পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জে রাহুল গান্ধী
ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘কংগ্রেস দল ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে পরাজিত করতে চলেছে। এরপরে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তি ইস্যুতে যে অর্থ চুরি হয়েছে তাঁর তদন্ত হবে। যারা এতে চুরি করেছেন গ্যারান্টি দিয়ে বলছি তাদের সাজা হবেই। কেউ রক্ষা পাবে না, এটাই সত্যি।’
লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে রাহুল গান্ধী গতকাল (বুধবার) পশ্চিমবঙ্গের রায়গঞ্জে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে ভাষণ দেয়ার সময় ওই মন্তব্য করেন।
ফ্রান্স থেকে রাফায়েল যুদ্ধবিমান ক্রয়ে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে বলে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সঙ্গে কংগ্রেস হাত মিলিয়েছে বলে যে অভিযোগ করেছেন রাহুল এদিন তাঁর ওই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
রাহুল বলেন, ‘মমতাজি বলছেন, বিজেপি’র বিরুদ্ধে কংগ্রেস লড়ছে না। কিন্তু ভাই ও বোনেরা বলুন রাফায়েল দুর্নীতি ইস্যু কারা তুলে ধরেছে? চৌকিদারকে চোর কে বানিয়েছে? রাফায়েল নিয়ে কংগ্রেস লড়াই করছে। প্রত্যেক রাজ্যে কংগ্রেস দল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমরা এক ইঞ্চিও পিছিয়ে আসিনি। আমরা চৌকিদারের চেহারাই পরিবর্তন করে দিয়েছি। চৌকিদার আজকাল ঠিকমত ভাষণ দিতেও পারছে না। ভয়ে ভয়ে কথা বলছেন। বাসায় গিয়ে ভাবছে কংগ্রেস রাফায়েল ইস্যুতে ফাঁসিয়ে দিয়েছে যদি তদন্ত হয় তাহলে জেলে যেতে হবে। চৌকিদারের অন্তরে ভয় রয়েছে। কীভাবে হল? কংগ্রেস পার্টি করেছে। আমরা লড়ছি।’
রাহুল বলেন, ‘কংগ্রেস দল বিজেপির সঙ্গে কখনো জোট করেনি। আমরা কখনো বিজেপির সঙ্গে জোট গড়িনি। কোনও রাজ্যে কখনো এরকম জোট করিনি। বিগত ৭০ বছরেও আমরা তা করিনি। কিন্তু মমতাজি জোট করেছেন। দেখুন দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস শক্তিশালীভাবে লড়াই করছে।’
‘আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই আপনারা ভয় পাবেন না। কংগ্রেস দল ২০১৯ সালের নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদিকে পরাজিত করবে’ বলেও রাহুল গান্ধী মন্তব্য করেন।
এদিন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেন, ‘দিদিভাই বলছেন কংগ্রেসের দুর্বলতার জন্য নাকি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এত বাড়বাড়ন্ত! আমি দিদিভাইকে বলি দয়া করে আয়নার সামনে আপনি দাঁড়ান। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি বিজেপিকে চেনালো কে? তার দায়িত্ব আপনি গ্রহণ করবেন না? আপনি ভুলে গেলেন যতীন চক্রবর্তীর কথা। যিনি খবরের কাগজে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন আমি মমতা ও বিজেপির মধ্যে সংযোগকারী। মনে নেই দিদিভাই? আপনি হাত ধরে এ রাজ্যে বিজেপিকে আনেন নি? আপনি এই রাজ্য থেকে বিজেপিকে জিতিয়ে সরকার গড়ে সেই সরকারের মন্ত্রী হননি আপনি? আপনি এখন অভিযোগের আঙুল তুলছেন কংগ্রেসের দিকে!’
মমতার উদ্দেশ্যে সোমেন বাবু বলেন, ‘বিজেপিকে তো আপনার স্বার্থে আপনি টিকিয়ে রেখে দিয়েছেন। আপনি জানেন যে সংখ্যালঘুদের ভয় দেখাতে গেলে ‘বিজেপির জুজু’কে যদি সামনে না রাখা যায় তাহলে সংখ্যালঘু মানুষরা ভীতি কাটিয়ে বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। সেজন্য পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিজেপিকে দ্বিতীয় শক্তি করে রাখার ষড়যন্ত্র তো আপনার দিদিভাই! এ তো কংগ্রেসের নয়।’
১৮৮৫ সাল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে এবং সেই লড়াই একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি বলে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১১