পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ‘তোষণ’ নয়, ‘শোষণ’ চলছে: ড. ইমানুল হক
-
ড. ইমানুল হক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার কিছু মুসলিম ব্যক্তি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে মুসলিম তোষণের বিষয়ে যে চিঠি দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী, ‘ভাষা ও চেতনা সমিতি’র সম্পাদক ও কোলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. ইমানুল হক।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে পাঠানো কতিপয় মুসলিমদের ওই চিঠিতে বিভিন্ন বিষয়ের উল্লেখের পাশাপাশি বলা হয়ে ‘এটা ভুলভাল গল্প যে, মুসলিমেরা ‘তোষণ’ চান। প্রশাসনকে এই ধারণা ভাঙতে হবে।’
এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. ইমানুল হক রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে যারা ওই চিঠি পাঠিয়েছেন তারা মূলত ‘অবাঙালি মুসলিম’। দ্বিতীয়ত, এদের একজনের এনজিও আছে। এই এনজিওর কারণে তাদের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা আছে। বিজেপির কাছে নিজেদের ভালো প্রমাণ করার জন্য সমগ্র মুসলিম সমাজের অপমান করছেন তারা। পশ্চিমবঙ্গে কেন, ভারতে কোনোরকম তোষণ হয় না। যদি তোষণ হতো তাহলে একশ’ পঞ্চান্ন লক্ষ কোটি টাকার সম্পত্তির সুদ মুসলিমদের দেয়া হতো। কিন্তু তা দেয়া হচ্ছে না। (সাবেক মুখ্যমন্ত্রী) সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলে রাজ্যে ৮ শতাংশ চাকরি ছিল মুসলিমদের। কিন্তু এখন চাকরির পরিমাণ ১ দশমিক ৭ শতাংশ! এমনকি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নিয়োগেও মুসলিমদের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ওয়াকফ সম্পত্তির ঠিকমত হিসাব নেই। তোষণ কোথায় হয়েছে? চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা কোথাও মুসলিমদের সেভাবে কোনও সুযোগ দেয়া হয়নি, তাহলে তোষণ কোথায় হল?’
তিনি মোটরবাইক চালানোর সময় হেলমেট না পরার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিনা হেলমেটে যেমন কিছু মুসলিম যুবক যান, তেমনি কিছু হিন্দু যুবকও যান। বিজেপির নেতা-নেত্রীরা যখন বাইক মিছিল করেন, তখন তারা হেলমেট না পরেই করেন। যখন শিবরাত্রির অনুষ্ঠানে ওরা তারকেশ্বরে যান তখনও তারা বাইকে হেলমেট ছাড়াই যান। সুতরাং, হেলমেট না পরলে তার নিজের বিপদ। এর সঙ্গে তোষণের কী সম্পর্ক? আর এনআরএস হাসপাতালে আক্রমণকারীরা হচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তারাই প্রথম আক্রমণ করেছেন। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু এক্ষেত্রে মুসলিমদেরই কেবল গ্রেফতার করা হয়েছে। ডাক্তারদের একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। যদি তোষণ হতো তাহলে কুরপান শাহ খুনের মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারত না। সুতরাং, তোষণ নয়, যা চলছে তা হল ‘শোষণ’। ওরা ওই শোষণটাকে আরও বাড়ানোর জন্য নিজের স্বার্থে, নিজেদের এনজিও চালানোর জন্য, প্রমোটিং ব্যবসা চালানোর জন্য গোটা মুসলিম সমাজের বদনাম করতে ওই চিঠি দিয়েছেন।’ যারা চিঠি দিয়েছেন তাদের ধিক্কার জানান ড. ইমানুল হক।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২১