কাশ্মীরের মানুষ ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে: নাকভির দাবি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i73098-কাশ্মীরের_মানুষ_৩৭০_ধারা_বাতিলের_সিদ্ধান্ত_সমর্থন_করেছে_নাকভির_দাবি
ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, কাশ্মীর উপত্যকার মানুষ ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে। আজ (রোববার) গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাকভি ওই দাবি করেছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
আগস্ট ২৫, ২০১৯ ১৫:১০ Asia/Dhaka
  • মুখতার আব্বাস নাকভি
    মুখতার আব্বাস নাকভি

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, কাশ্মীর উপত্যকার মানুষ ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছে। আজ (রোববার) গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নাকভি ওই দাবি করেছেন।

নাকভিকে প্রশ্ন করা হয়- ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্তে কী কাশ্মীরিদের সমর্থন আছে? জবাবে নাকভি বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই সকলের সমর্থন রয়েছে। অনেকদিন হল ৩৭০ ধারা অপসারণ করা হয়েছে কিন্তু সেখানে একটি গুলিও চলেনি। যদি কোনও বিদ্রোহ হতো তাহলে লোকেরা কারফিউ সত্ত্বেও সড়কে নেমে পড়তেন। এমনটি হয়নি কারণ লোকেরা জানে ৩৭০ ধারায় তাঁদের কোনোই ফায়দা হয়নি।’

৩৭০ ধারা অপসারণ নিয়ে বিরোধীরা যে প্রশ্ন তুলছেন সে সম্পর্কে নাকভি বলেন, ৩৭০ ধারা জম্মু-কাশ্মীরকে কিছুই দেয়নি। যারা বিরোধিতা করছেন তাঁরা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতার জন্য করছেন। কিন্তু যারা কাশ্মীর ও তার বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানেন এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উপরে ওঠার কথা ভবেন তাঁরা ৩৭০ ধারা অপসারণের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।

নাকভিকে প্রশ্ন করা হয়- যদি লোকেরা ৩৭০ ধার অপসারণকে সমর্থন করে তাহলে সেখানে এত কঠোর বিধিনিষেধ কেন? এই প্রশ্নের জবাবে নাকভি বলেন, ‘মুষ্টিমেয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য ওই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাঁরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়। বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যাতে মানুষকে বিভ্রান্ত না করতে পারে সে জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপপ্রচার বন্ধ করা দায়িত্বশীল সরকারের কাজ।’

৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিচার করার কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়ে নাকভি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ৩৭০ ধারা চলে গেছে। ৩৭০ ধারা আর ফিরে আসবে না কারণ এটা মোদি সরকার। সকলেই জানেন এই সরকার ভেবেচিন্তে সব সিদ্ধান্ত নেয়। এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে আর পুনর্বিচার করা হয় না। এজন্য এ নিয়ে পুনর্বিচারের প্রশ্নই নেই।’

ছোটন দাস

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটির’ সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (রোববার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘কাশ্মীরের জনসংখ্যা সম্ভবত ১ কোটি ৩০ লাখ। সেখানে সাড়ে পাঁচ লাখেরও বেশি মিলিটারি রাখা হয়েছে। সাবেক তিন মুখ্যমন্ত্রীর এখনও পর্যন্ত কোনও হদিস নেই। যেটুকু খবর আমরা পেয়েছি কাশ্মীরের সমস্ত জেলখানা ভর্তি হয়ে গেছে। বিমানে করে ভারতের মূল ভূখণ্ডে প্রচুর মানুষকে নিয়ে আসতে হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত স্কুল খুললেও যে ক'টা স্কুল খুলেছে তাতে ছাত্রদের দেখা যায়নি। মুখতার আব্বাস নাখভির সরকারের যদি সততা থাকে তাহলে ওখান থেকে কারফিউ ইত্যাদি এবং প্যারামিলিটারি, মিলিটারি তুলে নেয়া হোক। এবং যেসমস্ত ইউএপিএ (বেআইনি কার্যকলাপ দমন আইন) ধারা, আর্মস ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট যেগুলো সাধারণ কোনও জায়গায় থাকে না সেসব আইনগুলো ওখান থেকে প্রত্যাহার করা হোক তারপরে উনি (মুখতার আব্বাস নাখভি) যদি দাবি করেন তখন বোঝা যাবে কাশ্মীরের মানুষ কোনটা চায়।’

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।