নজরদারিতে কাশ্মীরের সাংবাদিকরা, ৫০ হাজার চাকরির পরিকল্পনা
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাংবাদিকদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। কাশ্মীর উপত্যকার খবর যাতে না বেরোয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণমাধ্যম সূত্রে প্রকাশ, সাংবাদিকরা কোথায় কী বার্তা পাঠাচ্ছেন তার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
উপত্যকায় সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও সাংবাদিকদের গতিবিধির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন কাশ্মীর টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন। গতকাল (বুধবার) ওই আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট গণমাধ্যমে বিধিনিষেধ ইস্যুতে ৭ দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে জবাব চেয়েছে।
কর্তৃপক্ষ অবশ্য সেখানে গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে চাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বেছে বেছে সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে, অবিলম্বে সরকারি আবাসন খালি করে দিতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য এর কোনও কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। সর্বভারতীয় একটি চ্যানেলের সাংবাদিক নাজির মাসুদি বলেন, ‘আমি প্রতি মাসে ১১ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আবাসনে থাকি। সেটা ছাড়তে বলা হয়েছে।’
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক ফায়াজ বুখারী, মার্কিন সাংবাদিক সামির ইয়াসিরকেও একই নোটিশ দেয়া হয়েছে। সরকারি মিডিয়া সেন্টারে যেসব সাংবাদিকরা কাজ করছেন, তাদের অভিযোগ, তাঁরা কোথায় কী বার্তা পাঠাচ্ছেন, তার ওপর গোয়েন্দারা নজর রাখছেন। সিনিয়র এক সাংবাদিক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাংবাদিকতা নয়, আমরা এখন সরকারের জনসংযোগের কাজ করছি।’
গতকাল (বুধবার) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, আগের কোনো সরকারই কাশ্মীর নিয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। সেখানে চলমান বিধিনিষেধ প্রসঙ্গে তিনি সাফাই বলেন, পাকিস্তান যাতে কৌশলে আগুন জ্বালতে না পারে সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, উন্নয়নের বার্তা দিতে শ্রীনগরে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর সত্যপাল মালিক বলেন, ‘শিগগিরি কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বড় ঘোষণা করবে। দুই/তিন মাসের মধ্যে রাজ্য সরকারে ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জম্মু-কাশ্মীরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময়ে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সম্পর্কে তিনি বলেন, মিথ্যা খবর প্রচার করা হচ্ছে যে এখানে অনেক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এরকম কিছু হয়নি। এখানে কেউ নিহত হয়নি এবং যারা আহত হয়েছেন তাঁরা কোমরের নীচে আঘাত পেয়েছেন বলে তাঁর দাবি। জম্মু-কাশ্মীরবাসীর উন্নয়নের জন্যই ৩৭০ ধারা অপসারণ করা হয়েছে বলেও গভর্নর সত্যপাল মালিক মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।