কাশ্মীরে ২৩ দিনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ৫৩১, আহত ৯১: সরকারি তথ্য
-
ফাইল ফটো
কাশ্মীরে গত ২৩ দিনে ৫৩১টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে সরকারি সূত্রে বলা হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় ৯১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭১ জন স্থানীয় মানুষ ও ২০ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক ট্রাক চালকের মৃত্যু হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো রিপোর্টে ওই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ৫ অগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত সংসদে পাস হওয়ার পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশঙ্কা ছিল কাশ্মীর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বিগত ২৩ দিনে ছোটখাট বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও জমায়েতের দাবি করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, জম্মুর অধিকাংশ স্থান স্বাভাবিক। কিন্তু পুঞ্চ ও বানিহালে বেশ কিছু অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। পাথর নিক্ষেপ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে কাশ্মীর উপত্যকায়। সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয়েছে দক্ষিণ কাশ্মীরে।
কাশ্মীর প্রশাসনের দাবি, রাজ্যের ১০৩টি থানা এলাকার মধ্যে ৮১ টি থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৯৬ টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জের মধ্যে ৪৭ টি এক্সচেঞ্জ এলাকায় ফোন পরিসেবা চালু হয়েছে। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২ হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হলেও তাদের অনেককে ছেড়েও দেয়া হয়েছে। এছাড়া ১৭৬ জনকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ‘দ্য হিন্দু’কে উদ্ধৃত করে হিন্দি ওয়েবসাইট ‘দ্য ওয়্যার’ জানায়, গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে কাশ্মীর উপত্যকায় পেলেটগানের ছররা গুলিতে ৩৬ জন আহত হয়েছেন। শ্রীনগর হাসপাতাল সূত্রের বরাতে ওই তথ্য জানানো হয়েছে। উপত্যকার অন্যান্য জেলার পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকে রাজ্যটিতে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপের কথা জানা গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে, গতকাল (বৃহস্পতিবার) ‘দ্য ওয়্যার’-এর এক রিপোর্টে বলা হয় জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার (৫ আগস্ট) করার পরে তিন দিনেই পেলেটগানের ছররা গুলিতে আহত কমপক্ষে ২১ তরুণকে শ্রীনগর শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারিভাবে কোনও তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানায়। হাসপাতালটির চিকিৎসক ও সেবিকারা বলেন, ৬ আগস্টের মতো ৭ আগস্ট আটজন এমন আহতকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় যাদের চোখ ও শরীরের অন্যত্র পেলেটগানের ছররা গুলির আঘাত ছিল।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।