এনআরসি নিয়ে বৈঠক: সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস ও মমতা ঠাকুরকে মারধরের অভিযোগ
-
মমতা ঠাকুর ও সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস
নাগরিকত্বের দাবি ও এনআরসি’র বিরুদ্ধে আন্দোলন কর্মসূচিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি ও সাবেক সংসদ সদস্যা মমতা ঠাকুরকে মারধর, নিগ্রহ ও হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের নাগরিকত্ব সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে মারধর ও হেনস্থা করা হয়েছে। আজ (বুধবার) ওই ঘটনায় ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়ি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এদিন নাগরিকত্ব ও এনআরসি ইস্যুতে মমতা ঠাকুর ও সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসের উদ্যোগে ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আগামীদিনের আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে এক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।
সাবেক এমপি মমতা ঠাকুর এ সম্পর্কে জানান, অরবিন্দ বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি শান্তনু ঠাকুর কিছু আলোচনার জন্য সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাসকে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় সুকৃতিবাবুকে ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি ব্যাপক মারধর করে। একপর্যায়ে তাঁকে নাটমন্দিরের সামনে মাটিতে ফেলেও মারধর করা হয়। তখন তিনি ছুটে গিয়ে সুকৃতিবাবুকে রক্ষা করতে গেলে হামলাকারীরা আমাকেও মারধরসহ, কাপড়ধরে টানাটানি করে ও চুলের মুঠি ধরে হেনস্থা ও নিগ্রহ করে। ওই ঘটনায় মুসলিমসহ কয়েকজন সাধারণ মানুষকেও মারধর করা হয় বলে তিনি জানান।
মমতা দেবী ওই ঘটনার কথা বিস্তারিত জানিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে গাইঘাটা থানায় অভিযোগ করেছেন।
হামলার ঘটনায় মমতা ঠাকুর ও সুকৃতিরঞ্জন বিশ্বাস বিজেপিকে দায়ী করেছেন। এবং এর নেপথ্যে বিজেপি সংসদ সদস্য শান্তনু ঠাকুরের হাত রয়েছে বলে গণমাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেছেন। যদিও মতুয়া মহাসঙ্ঘের এক অংশের সঙ্ঘাধিপতি ও সংসদ সদস্য শান্তনু ঠাকুর ওই ঘটনায় বিজেপির কেউ জড়িত নন, এবং এতে তাঁর কোনও হাত নেই বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, ওই হামলার ঘটনায় অরবিন্দ বিশ্বাস নামে একজনের নাম উঠে আসলেও তিনিও ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ নিয়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ সম্পর্কে মমতা ঠাকুর বলেন, ‘সমস্যা এনআরসি নিয়ে। নাগরিকত্ব নিয়ে ২০০৩ সালের কালাকানুন বাতিলের দাবিতে আমরা একটা মিটিং ডেকেছিলাম। আগামীতে কী করা যায় সেজন্য সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অন্যদেরকে ডেকেছিলাম। এটা করতে যেয়ে আমাদের আহ্বায়ক সুকৃতি রঞ্জন বিশ্বাসকে ডেকে নিয়ে আরএসএসের লোকেরা মারধর করেছে। অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনকে কেন ডেকে আনা হয়েছে সেই অভিযোগে। আসলে এনআরসির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন করতে দেবে না। সুকৃতিবাবুকে মারধর করাসহ ওনার জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এনআরসি সংক্রান্ত অনেক নথি ও বই ইত্যাদি কেড়ে নিয়েছে। আমি তাঁকে বাঁচাতে গেলে কাপড়চোপড় টেনে খুলে ফেলার চেষ্টাসহ চুলের মুঠি ধরে নিগ্রহ করা হয়।’
মমতা ঠাকুরের অভিযোগ, শান্তনু ঠাকুর আরএসএসের লোকজনসহ অজ্ঞাত লোকজন এনে ওই গোলযোগ সৃষ্টি করেছেন। এব্যাপারে গাইঘাটা থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। যদিও শান্তনু ঠাকুর তাঁর সাফাইতে বলেন, আজকে আমাদের নির্ধারিত সভা ছিল সেই সভাকে বাধাগ্রস্ত করতে ওপার বাংলা থেকে যে মুসলিমদের ডেকে এনেছে এই সরকার সেই মুসলিমদের এনে আমাদের সম্মেলনে আঘাত সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল। সুকৃতিবাবু যদি মুসলিমদের নিয়ে এসে আমার সভায় আক্রমণ করেন তাহলে সভার মানুষেরা তাঁকে কী করবে? তাঁকে কেউ গায়ে হাত দেয়নি বলেও বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।