মোদির সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ, কাশ্মীরে যাবেন আগামীকাল
নয়াদিল্লিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ (সোমবার) ওই বৈঠকে জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয় এবং সেখানকার বর্তমান পরিস্থিতি ও সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা হয়। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ইউরোপীয় সংসদের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল জম্মু-কাশ্মীর সফর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পরে এটিই বিদেশি প্রতিনিধি দলের কাশ্মীরে প্রথম সফর হবে। প্রতিনিধি দলটি আজ সন্ধ্যায় উপ-রাষ্ট্রপতি এম ভেঙ্কাইয়া নাইডুর সাথে দেখা করবেন। এই সফরটি এমন এক সময়ে করা হচ্ছে যখন মার্কিন এমপিদের একটি দল জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পর বিষয়টি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে উত্থাপন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নয়াদিল্লি বরাবরই কাশ্মীর ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে পাকিস্তানের দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ভারতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত থেকে কোনও বিদেশী প্রতিনিধিদলকে জম্মু-কাশ্মীর সফরের অনুমতি দেয়া হয়নি।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাশ্মীর সফরের বিষয়ে জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে বলা হয়েছে, ‘আশাকরি, ওরা রাজ্যের মানুষ, স্থানীয় গণমাধ্যম, চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের সাথে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কাশ্মীর ও বিশ্বের মধ্যকার লোহার পর্দা সরিয়ে দেয়া উচিত এবং জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে সমস্যায় ফেলার জন্য সরকারকে দায়ী করা উচিত।’ মেহবুবা মুফতি বর্তমানে আটক থাকার ফলে তাঁর মেয়ে ইলতিজা মুফতি তাঁর টুইটার ব্যবহার করে থাকেন।
কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা অপসারণের পরে সেখানে বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকর করে। সরকারিভাবে অধিকাংশ জায়গা থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যহারের কথা বলা হলেও সেখানে ইন্টারনেট পরিসেবা ও অন্যান্য সুবিধা বন্ধ থাকায় মানুষজন দুর্ভোগে পড়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আজ (সোমবার) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যের এবং যন্ত্রণার। এজন্যই দুর্ভাগ্যের এবং যন্ত্রণার যে, বিদেশি প্রতিনিধিরা সংশয় প্রকাশ করছেন কাশ্মীরের অবস্থা সম্পর্কে! এটা আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্যের বিরোধী। কারণ, এটা আমরা সকলেই জানি যে ৮৫ দিনের বেশি হয়ে গেল কাশ্মীর প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছি যে এটা আমাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’, অন্য কোনও দেশের বিষয় নয়। কাশ্মীর সম্পূর্ণরূপে ভারতের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ। ফলে, এই অংশের মানুষের আমাদের যে আদান-প্রদান, যে বক্তব্য, কোনটা করা উচিত কোনটা করা উচিত নয়, কোন প্রেক্ষিতে করা উচিত, কোন প্রেক্ষিতে করা উচিত নয় তা আমাদেরই নির্ধারণ করার কথা এখানকার মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনাক্রমে। কিন্তু যন্ত্রণার হচ্ছে সেটা আমরা পেরে উঠিনি। সংকীর্ণ, অসহিষ্ণু একটা সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণের কারণেই এটা আমরা পেরে উঠিনি।’
ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এটা সকলেই আমরা জানি আরএসএস স্বাধীনতার পর থেকেই তাঁরা কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রোধের দাবিতে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বক্তব্য রেখেছিল। কিন্তু এটাও সত্য যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যখন মন্ত্রী ছিলেন, যখন সাংসদ ছিলেন তখন ওই বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। সেই সময় ৩৭০ ধারা ভারতের সংবিধানের অঙ্গীভূত হয়। মন্ত্রিসভা ত্যাগ করার পরে তিনি ওই বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের এটা যে ভারতের এগারোটি রাজ্যে এখনও ‘বিশেষ সুবিধা’ আছে। শুধুমাত্র কাশ্মীরকে বাদ দিয়ে দেয়া হল। এটা আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, ‘এর আগের সাক্ষাৎকারে আপনাদেরকে বলেছিলাম, এই ভুলটা আমরা করছি যে, কাশ্মীর ইস্যু ‘আন্তর্জাতিকীকরণ’ আমরা করছি। আমরা যদি নিজেদের সমস্যা নিজেরা মেটাতে পারতাম তা সব থেকে ভালো হতো। কিন্তু এমন কতগুলো সিদ্ধান্ত আমরা নিচ্ছি, এমনভাবে সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিচ্ছি এবং প্রচার করছি, এমনভাবে একটা অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করছি যার ফলে গোটা ঘটনাটার ‘আন্তর্জাতিকিকরণ’ হয়ে যাচ্ছে!’ অসহিষ্ণু, সংকীর্ণ, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্য দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরকে বিভক্ত করা হয়েছে বলেও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।