কাশ্মীরে শান্তি ফেরাতে মোদি কী করেছেন, জানতে চাইব: ম্যার্কেল
-
অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও নরেন্দ্র মোদি
কাশ্মীরে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কী করেছেন, তা জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। গতকাল (শুক্রবার) রাতে তিনি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কাশ্মীরের পরিস্থিতি অত্যন্ত নড়বড়ে। সেখানকার উন্নতি প্রয়োজন। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জিজ্ঞাসা করব, এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন!’
গত বৃহস্পতিবার তিন দিনের জন্য ভারত সফরে আসেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল। তার এমন মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষে ‘অস্বস্তিদায়ক’ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত বরাবরই নিজেদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে উল্লেখ করেছে। গত (বৃহস্পতিবার) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার কাশ্মীর ইস্যুতে চীনকে টার্গেট করে বলেছিলেন, ‘ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে’ অন্য কেউ নাক গলাক, এটা ভারত কখনও চায় না।’
তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ‘চীন হোক বা অন্য কোনও দেশ, আমরা কখনওই চাই না, ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ নিয়ে কথা বলুক। ভারত যেমন অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলতে যায় না।’
জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার প্রতিবাদ ও একে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াংয়ের মন্তব্যের পাল্টা জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার ওই মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাশ্মীর ইস্যুতে জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের নয়া মন্তব্যে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে।
কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্প্রতি জার্মানির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, কাশ্মীর থেকে অবিলম্বে সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উচিত। এরপরে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জার্মান প্রতিনিধি নিকোলাউস ফেস্ট কাশ্মীর সফর করে সেখানকার পরিস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
শুক্রবার ভারত ও জার্মানির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেলেকে কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখান থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণগুলো জানান। এসময় তিনি ম্যার্কেলেকে পাকিস্তানের ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসের দিকটিও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ম্যার্কেল ওই মন্তব্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘মানবাধিকার বা মানবিকতা এটা কোনও দেশের কাঁটাতারের বেড়ার বিষয় নয়। যে কারণে ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময়ে ভারতের মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। এবং আন্তর্জাতিক বহু বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারত সরকার বারবার করে বলছে যে এটা ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’। এটা ঠিক বলছে না। দ্বিতীয়ত, কাশ্মীর পরিস্থিতি এত ভয়ঙ্কর যে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাতে আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না।
জার্মান চ্যান্সেলর তাঁর উদ্বেগ তাঁর ভাষায় প্রকাশ করেছেন। কাশ্মীরের পরিস্থিতি যে ভয়ঙ্কর সেজন্য জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রধান কথা বলেছেন। আমরা মানবাধিকার কর্মীরা বলি যে, কাশ্মীরের অবস্থা ভয়াবহ, গোটা কাশ্মীর জেলখানা, গোটা কাশ্মীরে জরুরি অবস্থা চলছে! সেটা ভারত সরকার ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র যে চেষ্টা করছিল তা ঢাকা যায়নি, চীনের প্রতিক্রিয়া, জার্মান চ্যান্সেলরের প্রতিক্রিয়া এবং জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিক্রিয়ায় তা প্রমাণ হয়েছে। গোটা বিশ্বের সামনে ভারতের মোদি সরকারের মুখ পুড়েছে! ওরা যে মিথ্যে কথা বলছে, সেকথা বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ হয়ে পড়েছে। ভারতের নাগরিক হিসেবে আমাদের লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীরা বিশ্বের বুকে মিথ্যেবাদী হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন!’ #
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।