কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানাল আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/india-i76949-কাশ্মীরের_রাজনৈতিক_নেতাদের_মুক্তি_দেয়ার_আহ্বান_জানাল_আমেরিকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস জম্মু-কাশ্মীরে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল (শুক্রবার) ওয়াশিংটনে অ্যালিস ওয়েলস এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন। 
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২০ ১৭:৪৮ Asia/Dhaka
  • অ্যালিস ওয়েলস
    অ্যালিস ওয়েলস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত প্রিন্সিপাল ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস জম্মু-কাশ্মীরে আটক রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দেয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল (শুক্রবার) ওয়াশিংটনে অ্যালিস ওয়েলস এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন। 

অ্যালিস বলেন, ‘ইন্টারনেট পরিসেবা আংশিক ফিরিয়ে আনাসহ জম্মু-কাশ্মীরে সম্প্রতি যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে আমি খুশি। সেইসঙ্গে ভারত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের কূটনীতিকদের নিয়মিত সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া সেখানে যে সমস্ত রাজনীতিককে বন্দি করা হয়েছিল, এবার ধীরে ধীরে তাদের মুক্তি দেওয়ার পথে এগোক ভারত।’

সম্প্রতি ১৫টি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর সফর করেন অ্যালিস ওয়েলস। শুক্রবার ওয়াশিংটনে করা তাঁর ওই মন্তব্যে কার্যত ভারতকে চাপ সৃষ্টি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অ্যালিস কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি দেশে চলমান সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) উল্লেখ করে বলেন, "কাশ্মীর সফর ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’ নিয়েও অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করেছে। এই মুহূর্তে ভারত গণতান্ত্রিক পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিরোধীরা সব রাস্তায় নেমে এসেছেন। গণমাধ্যমে তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে বিষয়টি। আইনত সকলের সমান সুরক্ষাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।"

এদিকে, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পরে আজ (শনিবার) থেকে জম্মু-কাশ্মীরে কম গতি সম্পন্ন টুজি ইন্টারনেট পরিসেবা চালু হয়েছে। তবে আপাতত সরকার অনুমোদিত ৩০১টি ওয়েবসাইটই সার্ফ করতে পারবেন উপত্যকাবাসী। সূত্রের খবর, সার্চ ইঞ্জিনসহ, ব্যাঙ্কিং, শিক্ষা, ভ্রমণ, নিয়োগ ইত্যাদি সংক্রান্ত সাইটগুলোই কেবল আপাতত খোলা যাবে।

চলতি জানুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, মালদ্বীপ, মরক্কো, ফিজি, নরওয়ে, ফিলিপিন্স, আর্জেন্টিনাসহ ১৫টি দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলকে কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেই দলে শামিল ছিলেন অ্যালিস ওয়েলস। গত বছর অক্টোবরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত বছর ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর থেকে সেখানে ইন্টারনেট বন্ধ করাসহ কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। একইসঙ্গে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষজনকে আটক অথবা বন্দি করা হয়। এ নিয়ে দেশে ও বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ায় কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে 'ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়' বলে সাফাই দিয়েছে। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে সেখানকার পরিস্থিতির দিকে আন্তর্জাতিক মহল নজর রেখেছে অ্যালিস ওয়েলসের সাম্প্রতিক মন্তব্য তারই প্রমাণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।