ইইউ'তে ‘সিএএ’ বিরোধী প্রস্তাব: আপত্তি জানিয়ে লোকসভার স্পিকারের চিঠি
-
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা
ভারতের বহুলালোচিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জম্মু-কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যে প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে তার বিরোধিতা করে ইইউতে চিঠি পাঠালেন সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
ইইউ-এর তৎপরতার বিরুদ্ধে আগেই ভারতের পক্ষ থেকে একে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও উপ-রাষ্ট্রপতি এম বেঙ্কইয়া নাইডু ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের কোনও সুযোগ নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন। এবার তার সঙ্গে লোকসভার স্পিকারের চিঠি যোগ হল।
অন্যদিকে, ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সত্য এটাই যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘সিএএ’ নিয়ে আলোচনা করছে। এই সরকার নাগরিকত্ব আইনকে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে।’
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৭৫১ জন সদস্যের মধ্যে ৬২৬ জন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে ৬ টি বিরোধী প্রস্তাব পেশ করেছে। ইইউ পার্লামেন্টের বহু এমপি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘যে পন্থা অবলম্বন করে ভারত সরকার সিএএ কার্যকর করেছে, তা গোটা বিশ্বে বৃহত্তরভাবে রাষ্ট্রহীনতার আশঙ্কা তৈরি করবে। যার কারণে বাড়বে মানুষের দুর্ভোগ।’
কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ইইউ সংসদের সভাপতিকে সম্বোধন করে তাঁর চিঠিতে বলেছেন, এ ধরণের প্রস্তাব একটি ‘অস্বাস্থ্যকর নজির’ স্থাপন করবে। তাঁর দাবি, একটি আইনসভার পক্ষে অন্যের উপরে রায় চাপিয়ে দেওয়া অনুচিত। এটা এমন একটি অভ্যাস যাকে স্বার্থের কারণে অপব্যবহার করা যায়। এজন্য এটি পুনর্বিবেচনা করা হোক।
ওম বিড়লা বলেন, ‘নাগরিকত্ব আইন সংসদের উভয় কক্ষে যথাযথভাবে বিবেচনা করেই পাস করা হয়েছে। এই আইনে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে যারা ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়েছে তাদের সহজ উপায়ে নাগরিকত্ব দানের বিধান রয়েছে।’ এটি কারও কাছ থেকে নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেয়ার লক্ষ্যে আনা হয়নি বলেও স্পিকার মন্তব্য করেছেন।

গত (রোববার) ‘সিএএ’-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় ইইউ। সিএএ নিয়ে ভারত সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে ওইদিন ছ’টি খসড়া প্রস্তাব পেশ করে ইইউ-এর অধিকাংশ সদস্য। ৭৫১ সদস্যের মধ্যে ৬২৫ জনই সিএএ-এর তীব্র বিরোধিতা করেন। প্রস্তাবে সিএএ’কে ‘বৈষম্যমূলক’ এবং ‘ভয়ানক বিভাজনকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ভারত সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা না করে, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। এটা কোনও ভাবেই কাম্য নয়।
ওই খসড়া প্রস্তাবে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেও ভারত সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করা হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের রাজনৈতিক গোষ্ঠী ‘নর্ডিক গ্রিন লেফট’-এর পক্ষ থেকে কাশ্মীরের উপরে জারি রাজনৈতিক অবরুদ্ধকরণ এবং ইন্টারনেট পরিসেবায় বিধিনিষেধ জারির পাশাপাশি যেভাবে গতবছর ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে (৩৭০ ধারা) বাতিল করে দেয়া হয়েছে তার নিন্দা করা হয়েছে।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।