কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে মার্কিন সিনেটরের প্রস্তাব নাকচ করলেন জয়শঙ্কর
https://parstoday.ir/bn/news/india-i77501-কাশ্মীর_সমস্যা_সমাধানে_মার্কিন_সিনেটরের_প্রস্তাব_নাকচ_করলেন_জয়শঙ্কর
জার্মানির মিউনিখে এক বিতর্ক সভায় কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন রিপাব্লিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জার্মানির মিউনিখে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ওই সম্মেলন শেষ হচ্ছে।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ ০৯:১৮ Asia/Dhaka
  • মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
    মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর

জার্মানির মিউনিখে এক বিতর্ক সভায় কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন রিপাব্লিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। জার্মানির মিউনিখে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন শুরু হয়েছে। ১৬ ফেব্রুয়ারি ওই সম্মেলন শেষ হচ্ছে।

মার্কিন সিনেটরের প্রস্তাব ছিল, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাশ্মীর সমস্যা সমাধান হলেই গণতন্ত্র বিশ্বের দরবারে আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি বলেন, "ভারতে আপনারা দ্রুত এগোচ্ছেন। আপনারা সরকার চালাতে গিয়ে কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যেগুলোর সমাধান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে করছেন। কিন্তু কাশ্মীরের প্রেক্ষিতে বলতে পারি, এই সমস্যা দূর করতে ‘দুই গণতান্ত্রিক দেশ’ পৃথক ভূমিকা গ্রহণ করুক। কাশ্মীর সমস্যার সমাধান গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হলে, আমি মনে করি সেটাই হবে গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করার সঠিক দিশা।"

রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এভাবে নাম না করে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করতে ভারতকে পরোক্ষে প্রস্তাব দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কিন্তু রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের উদ্দেশে জয়শঙ্কর বলেছেন, "সিনেটর আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না। একটা গণতান্ত্রিক দেশই এই সমস্যার সমাধান করবে। আর আপনি ভালোই জানেন সেই গণতান্ত্রিক দেশ কোনটা!"

মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম

জার্মানির মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বড় ফোরাম যেখানে বিশ্বের নেতা ও কূটনীতিকরা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।

আগামী ২৪/২৫ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে দু'দিনের সফরে ভারতে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরে নয়াদিল্লি ও গুজরাটের আহমেদাবাদে যাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের আগে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এভাবে কাশ্মীর সমস্যা উত্থাপন ও ট্রাম্পের দলের এক সিনেটরের এমন মধ্যস্থতায় নরেন্দ্র মোদি সরকার অস্বস্তিতে। এমনটাই দাবি বিশ্লেষকদের।   

ভারত সফরের সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আহমেদাবাদে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করবেন। মোতেরা স্টেডিয়ামের ওই অনুষ্ঠানে তিনি কয়েক হাজার মানুষের সামনে বক্তব্য রাখবেন। এসময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

ট্রাম্পের ভারত সফরের সময়েই ভারত ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে বাণিজ্য চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের ভারত সফরের মূল উদ্দেশ্য বাণিজ্য চুক্তি হলেও দু'দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ রোধে একসঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ করা সহ আরও নানা বিষয়েও আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে দুই ডেমোক্র্যাট ও দুই রিপাবলিকান সিনেটর মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মাইক পম্পেয়োকে চিঠি দিয়ে খোলাখুলি নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এখনও পর্যন্ত উপত্যকার অধিকাংশ জায়গায় ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। বিশ্বের আর কোনও গণতন্ত্রে এতদিন পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নজির নেই। এতে ৭০ লাখ মানুষের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসা পরিসেবা, মার খাচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থাও।’

দীর্ঘ ছ’মাস ধরে কাশ্মীরকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ফল মারাত্মক হতে পারে বলেও সতর্ক করে মার্কিন সিনেটররা বলেন, "বিশিষ্ট রাজনীতিকসহ নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে শত শত কাশ্মীরিকে আটক করে রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলাফল মারাত্মক হতে পারে!"

গতবছর ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা বাতিলের পরে রাজনৈতিক কারণে কাশ্মীরে ঠিক কতজনকে বন্দি করে রাখা হয়েছে, যোগাযোগের মাধ্যমগুলো কতটা সক্রিয়, স্বাধীন পর্যবেক্ষক, কূটনীতিক এবং  বিদেশি সাংবাদিকরা আদৌ সব জায়গায় যেতে পারছেন কী না, ৩০ দিনের মধ্যে সেই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ওই সিনেটররা।

মার্কিন সিনেটরদের চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, "ভারত সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ করেছে, যাতে 'একটি বিশেষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের' অধিকার খর্ব হতে পারে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চরিত্রও খোয়াতে পারে ভারত। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সেই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম।"

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর হলে ঠিক কত মানুষ রাষ্ট্রহারা হতে পারেন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) চালু হলে কত মানুষ প্রভাবিত হবেন, সেই সংক্রান্ত একটি রিপোর্টও তৈরি করতে মার্কিন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন সিনেটররা।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১৬