দিল্লিতে গণহত্যা হয়েছে, অবিলম্বে তদন্ত করা উচিত: ড. আব্দুস সাত্তার
ভারতের রাজধানী দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও কোলকাতার নব বালিগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার বলেছেন, দিল্লিতে গণহত্যা হয়েছে, সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া সহিংসতা হতে পারে না। তিনি আজ রেডিও তেহরানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার বলেন, 'সরকার ছাড়া, সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া কোথাও কোন সহিংসতা হতে পারে না, কোন ধরনেরই হিংসা। দাঙ্গা হোক বা অন্যান্য হিংসা। দিল্লিতে যা ঘটেছে তা সকলেই বলছেন, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে এটা ‘গণহত্যা’ সংগঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় কথাটা হচ্ছে যে, জাতীয় সুরক্ষা পরামর্শদাতা (অজিত ডোভাল) যিনি, তিনি এরআগে কাশ্মীরেও গেছেন। আমরা দেখেছি, লক্ষ্য করেছি। কাশ্মীরের মানুষের মনে বিশ্বাস ফেরানোর জন্য তিনি গেছেন। সংবাদমাধ্যমে দেখেছি তিনি সকলের সঙ্গে খাচ্ছেন দুপুরে, এখানেও তাই। এবং মারাত্মক একটি মন্তব্য করেছেন। একজনের প্রশ্নের উত্তরে যে, আমাদের সুরক্ষার কী হবে? তখন তিনি বলেছেন যা হয়েছে, হয়েছে। এরপরে আর কিছু হবে না। এও আমরা শুনেছি। কংগ্রেস পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা হিসেবে অধীর রঞ্জন চৌধুরী যা বলেছেন সেটা সঙ্গত প্রশ্ন। যাঁরা নির্বাচিত প্রতিনিধি, যাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যিনি হচ্ছেন দিল্লির সুরক্ষার দায়িত্বে, পুলিশ প্রশাসন সবই তাঁর হাতে তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কী করছিলেন? এটা তো সঙ্গত প্রশ্ন। সরকার কোথায়? সরকারের মন্ত্রীরা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী ৬৯ ঘণ্টা পরে তাঁর নীরবতা ভাঙলেন। কাউকে তো দেখা গেল না। ভয়ংকর ‘নরসংহার’! মানুষ মরল। তাণ্ডব হল। একের পর এক উসকানি দেওয়া হল। সাম্প্রদায়িক উসকানি। সবই করলেন বিজেপির নেতারা। কাউকে তো কোথাও দেখা গেল না। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা গেলেন পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে। আশ্চর্য! এই জন্যই আমি বললাম সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া কোথাও কোন হিংসা সংঘটিত হতে পারে না। পুলিশ প্রশাসন কোথায় ছিল? পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও তো সেভাবে ছিল না। তিনদিন পর্যন্ত চলল নরসংহার। কোথাও কোনও পুলিশ প্রশাসন নেই। কোথাও মন্ত্রী নেই। তিনি নীরব। তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) প্রধানমন্ত্রীর টুইটটাকেই নিজের টুইটারের হ্যান্ডেলে দিয়ে দিলেন। এরবেশি তো কিছু দেখা যায়নি।'
ড. আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, 'নির্বাচনে হারা-জেতার সঙ্গে দাঙ্গার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা লক্ষ্য করলাম কিছুদিন আগেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পর্যুদস্ত হয়েছে 'আপ'-এর কাছে, ভয়ংকরভাবে। তা সত্ত্বেও দেখা গেল সেখানে দাঙ্গা সংগঠিত হল। এমন একটা এলাকায় হল যেখানে বিজেপির আটজনের মধ্যে পাঁচজন সেখান থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। আবার উল্টো দিকে যিনি সদ্য জিতে এসেছেন (আম আদমি পার্টির প্রধান ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল) তিনি রাজঘাটে বসে পড়লেন ধর্নায়। এটা বুঝতে হবে যখন দেশ জ্বলছিল, ক্ষমতার হস্তান্তর হচ্ছিল ১৯৪৭ সালে তখন গান্ধীজি দিল্লীতে বসে ছিলেন না। ক্ষমতার হস্তান্তরের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। তিনি দাঙ্গাপীড়িত এলাকা নোয়াখালি, বেলেঘাটায়, কোলকাতায় ঘুরছিলেন। আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী বসে থাকলেন রাজঘাটে! দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী যদি তাঁর ৬২ জন বিধায়ক নিয়ে রাস্তায় নামতেন, তাহলে এতবড় নরসংহার হতো না। দাঙ্গা সংগঠিত হতো না। এ থেকে একটা বিষয় খুব পরিষ্কার। নির্বাচনে হারা-জেতার সঙ্গে দাঙ্গার কোন সম্পর্ক নেই। দাঙ্গা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে এমন একটা শক্তি, এমন ক্ষমতা অর্জন করেছে যেকোনো মুহূর্তেই মানুষকে উত্তেজিত করা যায়, দাঙ্গা সংগঠিত করা যায়। কেন দাঙ্গা, কী কারণে দাঙ্গা? মানুষের জানমাল, সম্পত্তি সব ধ্বংস হলো। এটার জন্য অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি তাঁকে দিয়ে অন্তত এর তদন্ত করা উচিত, জানা উচিত। কারা, কেন, কী কারণে দাঙ্গা সংগঠিত করল। এটা তো জানা দরকার। এটা তো দিল্লির বিষয় না। আগামীদিনে সারাদেশে এরকম হতে পারে। এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/১২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।