পশ্চিমবঙ্গে ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে জনতা-পুলিশ সংঘর্ষ
-
ঘটনাস্থলে পুলিশ
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাদুড়িয়ায় ত্রাণের দাবিতে সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে জনতা ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আজ (বুধবার) ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদুড়িয়ার তারাগুনিয়া দাসপাড়া এলাকায় কার্যত রণক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়।
আজ বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট, পাথর নিক্ষেপ করেন। পুলিশ মারমুখী জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা ব্যাপক লাঠিচার্জ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় বাদুড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ ৪ পুলিশকর্মী আহত হলে তাঁদেরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাদুড়িয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তারাগুনিয়া এলাকার একাংশের বাসিন্দারা আজ সকাল থেকে ত্রাণের দাবিতে স্থানীয় খোলাপোতা-বাদুড়িয়া সড়ক অবরোধ করেন। তাদের অভিযোগ, করোনাজনিত লকডাউনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ দেওয়া হলেও বার বার আবেদন সত্ত্বেও তাদের এলাকায় কোনো ত্রাণ পৌঁছয়নি।
অবরোধকারীদের দাবি, পুলিশ অবরোধ তুলতে এসে তাঁদের উপরে চড়াও হয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে। আজ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। নারী বিক্ষোভকারীরা ঝাঁটা হাতে নিয়ে পুলিশের উপরে চড়াও হয়। পুলিশও পাল্টা লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের। ওই ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পৌঁছে গোটা এলাকায় তল্লাশি চলছে। হামলাকারীদের ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘ত্রাণ দেওয়ার নাম করে ওই ঘটনা ঘটেছে। রাস্তা অবরোধ হয়েছিল তার নেতৃত্ব দিয়েছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় বিজেপি নেতা রাম দাস। ওনার নেতৃত্বে পুলিশকে মারধর করা, মাথা ফাটানো, সিভিক ভলেন্টিয়ারকে মারধর করা হয়েছে। পুলিশ সুপারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছি। যারা যেকোনো কারণে ত্রাণ পায়নি, সেই ২০/২৫ জনকে আমরা ত্রাণ দিয়ে দিতে বলেছি।’
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আরও বলেন, ‘একটা জিনিস প্রমাণিত হল যে বিজেপি বলছিল তারা কিছু করছে না, তারা চুপচাপ বসে আছে। কিন্তু এই ঘটনায় প্রমাণ হল যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উসকানি দিচ্ছে। তারা মানুষকে উস্কে দিয়ে রাস্তায় নামাচ্ছে, পুলিশকে মারধর করছে। পুলিশ সদস্যের মাথা ফাঠানো ও সিভিক সদস্যদের মারধর করার জন্য বিজেপি দায়ী বলেও রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সাফ জানান।
অন্যদিকে, বাদুড়িয়া পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাসপাড়ায় ওই ঘটনা ঘটেছে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিত্র ঘোষের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ওখানকার সকলেই ত্রাণ পেয়েছেন।’ রাজনৈতিক উসকানি দিয়ে গণ্ডগোল বাধানো হয়েছে বলেও দীপঙ্কর ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।