ভারতে কৃষক আন্দোলনের ফলে ব্যবসায় কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
https://parstoday.ir/bn/news/india-i85508-ভারতে_কৃষক_আন্দোলনের_ফলে_ব্যবসায়_কমপক্ষে_১৪_হাজার_কোটি_টাকার_ক্ষতি
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করা কৃষি সংক্রান্ত তিনটি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে যে কৃষক আন্দোলন চলছে তার ফলে ব্যবসায়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (ক্যাট) এরকমই একটি তথ্য প্রকাশ করেছে।
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
ডিসেম্বর ২২, ২০২০ ১৪:১৩ Asia/Dhaka
  • ভারতে কৃষক আন্দোলনের ফলে ব্যবসায় কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করা কৃষি সংক্রান্ত তিনটি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে যে কৃষক আন্দোলন চলছে তার ফলে ব্যবসায়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স (ক্যাট) এরকমই একটি তথ্য প্রকাশ করেছে।

আজ (মঙ্গলবার) কৃষক আন্দোলনের ২৭ তম দিন। সরকার পক্ষ ও কৃষক নেতাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। কৃষকরা তিনটি কৃষি আইনই বাতিল করার দাবিতে অনড় রয়েছেন। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি- ওই আইনে কৃষকরা অনেক সুবিধা পাবেন।

আজ গণমাধ্যমে প্রকাশ, কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্স-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দিল্লি সীমান্তে গত ২৬ দিন ধরে ধর্না-অবস্থানে কয়েকটি রাজ্যের কৃষকদের আন্দোলনের ফলে দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান ও উত্তর প্রদেশ অঞ্চলে ব্যবসায়ে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪ হাজার কোটি টাকার বড় ক্ষতি হয়েছে।

কৃষক আন্দোলনের কারণে ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা লোকসানের কথা উল্লেখ করে ‘ক্যাট’ কৃষক নেতা ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদনে  সংলাপের মধ্য দিয়ে বিষয়টি অবিলম্বে সমাধানের দাবি জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশ্যে জনগণের সমস্যা বিবেচনা করে অবকাশকালীন বেঞ্চে এই বিষয়ে অবিলম্বে শুনানির তারিখ ঠিক করা উচিত বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

কনফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া ট্রেডারস (ক্যাট) ব্যবসায়ীদের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বলেছে, কৃষক আন্দোলন চলার  ফলে কমপক্ষে ২০ শতাংশ ট্রাক দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকে পণ্য দিল্লিতে আনতে পারছে না। এরফলে দিল্লি থেকে অন্যান্য রাজ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো পণ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

‘ক্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী দৈনিক প্রায় ৫০ হাজার ট্রাক দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজ্য থেকে মালামাল নিয়ে দিল্লিতে আসে এবং কমপক্ষে ৩০ হাজার ট্রাক দৈনিক দিল্লির বাইরে অন্য রাজ্যের জন্য পণ্য বহন করে।

‘ক্যাট’ বলেছে, অন্যান্য রাজ্যগুলোর থেকে প্রত্যেকদিন বিশেষত এফএমসিজি পণ্য (ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুড/দ্রুত-চলমান কনজিউমার পণ্য), মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্য, খাবার, ফলমূল এবং শাক-সবজি, শুকনো ফল, ইলেকট্রনিক্স, বৈদ্যুতিক পণ্য, ওষুধ, বিল্ডিং উপকরণ, লোহা-ইস্পাত, টেক্সটাইল, যন্ত্রপাতি, বিল্ডিং হার্ডওয়্যার, কাঠ এবং প্লাইউড, তৈরি পোশাক ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে দিল্লিতে আসে।

ওই পণ্যগুলো মূলত দিল্লি-জয়পুর, দিল্লি-মথুরা, আগ্রা মহাসড়ক, দিল্লি-গাজিয়াবাদ মহাসড়ক, দিল্লি-চন্ডীগড় মহাসড়ক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে আসে। কারণ এই মহাসড়কগুলো দিল্লিকে দেশের সমস্ত রাজ্যের সাথে সংযুক্ত রয়েছে। বর্তমানে কৃষক আন্দোলনের ফলে এসব মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে আছে অথবা দীর্ঘ যানজটের ফলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে  ঘুরপথে দিল্লি আসতে হচ্ছে। এরফলে সরবরাহ দেরিতে আসছে বা বন্ধ হচ্ছে। ‘ক্যাট’ বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন অব্যাহত থাকলে সরবরাহের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে অবশ্য কোনও পণ্যের ঘাটতি নেই বলেও জানিয়েছে ‘ক্যাট’। 

পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।