বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো ‘লাভ জিহাদ’ সম্পর্কিত আইন নিয়ে সংবিধানকে উপহাস করছে : ওয়াইসি
ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, ‘ভারতীয় সংবিধানে কোথাও লাভ জিহাদের সংজ্ঞা নেই। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো ‘লাভ জিহাদ’ সম্পর্কিত আইন নিয়ে সংবিধানকে উপহাস করছে।’
আজ (বুধবার) এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইট সূত্রে প্রকাশ, ওয়াইসি বলেছেন, ‘বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলো যদি আইন তৈরি করতে চায় তাহলে কৃষকদের ফসলের নুন্যতম সহায়ক মূল্য ‘এমএসপি’ নিয়ে আইন করা উচিত, কর্মসংস্থান দেওয়ার বিষয়ে আইন করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন আদালতও পুনরাবৃত্তি করেছে যে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী ২১, ১৪ এবং ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে কোনও ভারতীয় নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে কোনও সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে স্পষ্টভাবে জড়িত বিজেপি।’
সম্প্রতি বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বিরোধী আইন কার্যকর করা হয়েছে। ধর্মান্তরণ প্রতিরোধী ওই আইনে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন টার্গেটের শিকার হচ্ছেন।
বিতর্কিত ওই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন দেশের শতাধিক সাবেক ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস বা ‘আইএএস’ কর্মকর্তা। আজ এনডিটিভি সূত্রে প্রকাশ, এব্যাপারে তাঁরা অবিলম্বে ধর্মান্তরণ আইন তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে একটি চিঠি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীকে যারা চিঠি লিখেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন, ভারতের সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একসময়ের উপদেষ্টা টিকেএ নায়ার। চিঠিতে রীতিমতো কঠোর ভাষায় বলা হয়েছে, ‘যে সংবিধানে হাত রেখে শপথগ্রহণ করেছিলেন, তার সম্পর্কে নিজেদের জ্ঞান ঝালিয়ে নেওয়া উচিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথসহ সমস্ত রাজনীতিকদের।’
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশ্যে তাঁরা আরও বলেছেন, ‘যে গঙ্গা-যমুনার তীরে একসময়ে সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল, সেই উত্তর প্রদেশ এখন বিদ্বেষের রাজনীতি, বিভাজন এবং ধর্মান্ধতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রদায়িকতার বিষে ডুবে রয়েছে। সেজন্য এই স্বাধীন দেশে, স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যাঁরা বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন, সেই যুবসমাজের উপরে নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে আপনার প্রশাসন।’ ‘ধর্মান্তরণ অর্ডিন্যান্সকে ঢাল করে ভারতীয় মুসলিম এবং স্বস্বাধীনতা সম্পর্কে সচেতন নারীদের ইচ্ছাকৃত ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে’ বলেও সাবেক আইএএস কর্মকর্তারা মন্তব্য করেছেন।
এ প্রসঙ্গে আজ ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর সহ-সম্পাদক ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ইদ্রিস আলী মণ্ডল আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘বিজেপি আসলে ঘৃণার রাজনীতির কারবারি। বিদ্বেষই ওঁদের পুঁজি। সেজন্য মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বাড়াতে ঝুলি থেকে এবার কথিত ‘লাভ জিহাদ’ ইস্যু বের করেছে। কার্যত কাল্পনিক বিষয়কে কেন্দ্র করে সাংবিধানিক রীতিনীতি তুচ্ছ করে বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মান্তরণ বিরোধী আইন তৈরি করেছে। আসলে নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন ঠিকই বলেছেন যে, ‘লাভ’ বা প্রেমের মধ্যে কোনও ‘জিহাদ’ নেই। ভিন্ ধর্মের কাউকে ভালবেসে বিয়ে করলে, তার মধ্যে কোনও ‘জিহাদ’ থাকতে পারে না। তেমনই একটি ধর্ম ছেড়ে অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলেও কোনও সমস্যা নেই। এটা একটা রাজনৈতিক দল করছে।এরফলে ভারতকে অপমান করা হচ্ছে।’ সেজন্য আমাদের দাবি- অবিলম্বে ধর্মান্তরণ বিরোধী আইন বাতিল করাসহ যাদেরকে ওই আইনের আওতায় গ্রেফতার করে হয়রানি করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’ বলেও বিশিষ্ট সমাজকর্মী ইদ্রিস আলী মণ্ডল মন্তব্য করেন।#
পার্সটুডে/এমএএইচ/ বাবুল আখতার/৩০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।