পশ্চিমবঙ্গে নয়া দল গড়লেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/india-i86252-পশ্চিমবঙ্গে_নয়া_দল_গড়লেন_ফুরফুরা_শরীফের_পীরজাদা_আব্বাস_সিদ্দিকী_মিশ্র_প্রতিক্রিয়া
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) নামে নয়া দল গঠন করেছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যে এই প্রথম ফুরফুরা শরীফের কোনও পীরজাদার নেতৃত্বে দল গঠনের ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জানুয়ারি ২২, ২০২১ ০৯:৩২ Asia/Dhaka
  • পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’র আত্মপ্রকাশ
    পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’র আত্মপ্রকাশ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) নামে নয়া দল গঠন করেছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের মুখে রাজ্যে এই প্রথম ফুরফুরা শরীফের কোনও পীরজাদার নেতৃত্বে দল গঠনের ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। 

রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল নেতা, পৌর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আব্বাসের দলকে গুরুত্ব দিচ্ছি না। বিহারে ‘মিম’-এর মতো দল বিজেপিকে জয়ী হতে সাহায্য করেছে। বাংলায় এসব চলবে না।“” 

তৃণমূলের সিনিয়র নেতা অধ্যাপক সৌগত রায় এমপি বলেছেন, “আমি আব্বাস সিদ্দিকীর সঙ্গে একমত নই। নির্বাচনের আগে নতুন নতুন খেলোয়াড় অবতীর্ণ হন। আব্বাস সিদ্দিকী নতুন একজন প্লেয়ার। আমাদের মাঠে নামলেন। কিন্তু তিন মাসের মধ্যে তো কিছু করা যায় না। তিনি কিছু করতে পারবেন না। তিনি যদি তৃণমূলের একটা ভোটও কাটেন তাতে বিজেপি’র সাহায্য হবে। তিনিই বিচার করবেন তাতে সংখ্যালঘুদের লাভ হবে কি না। আমাদের বিশ্বাস রাজ্যের সংখ্যালঘুরা তৃণমূলের সঙ্গে আছেন এবং তৃণমূলের সাথেই থাকবে।”  

রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, মিম-শিম যেই আসুক, কিছু করতে পারবে না। বাংলার মানুষ সচেতন।   

পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি

এদিকে, পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির রাজনৈতিক দল গঠনের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর চাচা পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। ত্বহা সিদ্দিকী বলেন, “এটা আমাদের লজ্জা! ফুরফুরার পীর সাহেবদের লজ্জা! ফুরফুরা শরীফের পীরসাহেবদের বংশের কোনও ছেলে এই পথে হাঁটেনি। মুসলিমদের ভোট ভাগ করার জন্য বিজেপি ও আরএসএস থেকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা খরচ করে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে ভাগ করা যাবে না। পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী অবশ্য বলেছেন, মুসলিম ভোট ভাগের প্রশ্ন কেন করেন? হিন্দু ভোট নিয়ে তো প্রশ্ন হয় না।”   

ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা মেরেরাব সিদ্দিকীর মতে, “যে কেউ রাজনৈতিক দল করতে পারেন। ফুরফুরা শরীফে সব দলের নেতারা আসেন। রাজ্যের ভালোর জন্য ফুরফুরায় আসেন। আব্বাস সিদ্দিকীও রাজ্যের ভালো চাচ্ছেন। তাতে অসুবিধা কোথায়?” ‘সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আটকাতে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে ভালো’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল মাতিন আজ (শুক্রবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নামক যে রাজনৈতিক দলের গতকাল ২১শে জানুয়ারি বহিঃপ্রকাশ হয়েছে এটা পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক গণতন্ত্র ও রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ভূমিকা। পিছিয়ে পড়া আদিবাসী, দলিত, সংখ্যালঘু সমাজের থেকে একটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া হচ্ছে। আর এই দলটির বিশেষ গুরুত্ব যেটা আমার মনে হয় এই দলের মূল বিষয়ের মধ্যে ‘সাংবিধানিক গণতন্ত্র’ যেটার কথা প্রায়ই কমবেশি সমস্ত দল ভুলেই গেছে যে, সাংবিধানিক গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায় ও মর্যাদা যা অন্যান্য দলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

অধ্যাপক আব্দুল মাতিন

তিনি বলেন, এই দলের মধ্যে যে বিশেষ গুরুত্ব হচ্ছে যে বাবাসাহেব আম্বেদকরের যে দর্শন ছিল, যে সামাজিক পরিবর্তন এবং সঠিক অর্থে যে সেকুলারিজম, যে সেকুলার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকের যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নটা খানিকটা দেখতে পাচ্ছি আর কী। আর উনি (পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি) যেভাবে গ্রামের পর গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন এবং যে ধরণের সাড়া পাচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ সাড়া কিন্তু অভূতপূর্ব! আগে কোন রকমেরই দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘুদের এরকম কোন রাজনৈতিক সংগঠন ছিল না, যে সংগঠনের এত জনসংযোগ ছিল। এটা স্বাধীন বাংলার প্রথম এরকম ধরণের কোন পলিটিকাল অ্যাসপিরেশনগ্রাম বাংলার তৃণমুল স্তর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। এটা হয়তো আগামীতে একুশে'র (২০২১ সাল) বিধানসভা নির্বাচনে সমীকরণটাও পাল্টে দেওয়ার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর একটা জিনিষ বিশেষ কারণ যেটা অনেকেই আশংকা করেন যেটা হচ্ছে ‘বিজেপি’ চলে আসবে। সমস্যা হচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে প্রথমে বিজেপি ছিল না, এটা আসলো লাস্ট চার/পাঁচ বছরেই। প্রশ্ন হচ্ছে- বিজেপি চলে আসা রুখে দেওয়ার যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সেই প্রচেষ্টাকে আমরা তথাকথিত মূলসুরের রাজনীতি থেকে দেখতে পাচ্ছি? সেটা যেমন দেখতে পাচ্ছি না তার পাশাপাশি এই যে ‘বিজেপি চলে আসবে’ বলে সাধারণ মানুষ অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু মুসলিম তারা তাদের সাংবিধানিক ইচ্ছা, প্রতিনিধিত্ব,  সামাজিক ন্যায় ও সাংবিধানিক আদর্শকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা শুধু একটা পার্টিকে (বিজেপিকে) রুখে দেওয়ার যে পলিটিক্স,  ভয়ের রাজনীতি, এটাই শুধু করবে এটা সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য ঠিক নয়। তাই আমার মনে হয় এই নিরাপত্তার ইস্যুটাকে খুব বেশি জোর দিলে যেটা হয়, সামাজিক ন্যায়, সামাজিক আন্দোলন, সমান সুযোগ, সমান অধিকার, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এইসব বিষয়গুলো কিন্তু বাদ পড়ে যায়।’

‘আমার মনে হয় সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক রাজনীতি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজনীতি হয়তো আগামীদিনে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রকে পাল্টেও দিতে পারে’ বলেও অধ্যাপক আব্দুল মাতিন মন্তব্য করেন।#

 

পার্সটুডে/এমএএইচ/এআর/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।