ছত্তিসগড়ে মাওবাদী হামলায় আধাসামরিক বাহিনীর ২২ জওয়ান নিহত, মোদি-অমিতের শোক
ভারতের ছত্তিসগড়ে ভয়াবহ মাওবাদী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ২২ জওয়ান নিহত হয়েছেন। মাওবাদীদের এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণের ফলে ওই জওয়ানরা মারা যান। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অন্যরা শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, এই বীর জওয়ানদের আত্মত্যাগ কখনও ভোলা যাবে না। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
আজ (রোববার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, ‘মাওবাদীদের হামলায় শহীদ নিরাপত্তরক্ষীদের আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানাই। দেশ তাদের এই আত্মত্যাগ ভুলবে না। তাদের পরিজনদের প্রতি আমার সমবেদনা রয়েছে। আমরা শান্তি ও উন্নতির পথে বাধা শত্রুর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
আজ ছত্তিশগড় পুলিশের মহানির্দেশক (নকশাল অভিযান) অশোক জুনেজা বলেন, ‘সংঘর্ষে গতকাল ৫ জন মারা গিয়েছিলেন। আজ মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।’ ডিজি অশোক জুনেজা বলেন, ‘যে ১৮ জওয়ান নিখোঁজ ছিলেন তাদের মধ্যে ১৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। মাওবাদীদের এমন প্রাণঘাতী হামলার যোগ্য জবাব দিতে অভিযান আরও জোরালো করা হবে।’
এদিকে, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেছেন, এতবড় নাশকতা হল, তা নিয়ে কোনও হেলদোল নেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর। কিন্তু বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে হারাতে বাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করছেন। দেশে পুলওয়ামার পরে এতবড় নাশকতা আর হয়নি। দেশের বীর জওয়ানদের নৃশংস ভাবে হত্যা করল মাওবাদীরা। কিন্তু কী করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, উনি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলায় একজনকে হারাতে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করছেন। কোনও হেলদোল নেই। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে ঘন ঘন রাজ্য সফরে আসায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেছেন।
এনডিটিভি হিন্দি ওয়েবসাইটে প্রকাশ, ছত্তিশগড়ে মাওবাদ অধ্যুষিত বীজাপুর ও সুকমা জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গতকাল (শনিবার) নিরাপত্তা বাহিনী এবং মাওবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষে ২২ জওয়ান নিহত হয়েছে এবং আরও একজন জওয়ান নিখোঁজ রয়েছে। একইসঙ্গে আহত হয়েছেন কমপক্ষে একডজন জওয়ান। ছত্তিসগড়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ওই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন মাওবাদীও নিহত হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে বীজাপুরের পুলিশ সুপার কমললোচন কাশ্যপ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছত্তীসগড়ের সুকমা-বীজাপুর সীমান্তে মাওবাদী হামলায় ২২ জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩১ জন।’
গতকাল (শনিবার) ৫ জওয়ানের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসলেও আজ (রোববার) মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে বীজাপুর ও সুকমার মাঝে একটি গ্রামে মাওবাদীদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। ওই বাহিনীতে কোবরা (কমান্ডো ব্যাটালিয়ান ফর রেজলিউট অ্যাকশন), ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি) এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সমন্বিত জওয়ানরা ছিলেন। কিন্তু অভিযান শুরুর মুখেই নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানদের দিকে এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে মাওবাদীরা। এ সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করে মাওবাদীদের জবাব দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।