পশ্চিমবঙ্গে ইয়াসের তাণ্ডবে ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
https://parstoday.ir/bn/news/india-i92204-পশ্চিমবঙ্গে_ইয়াসের_তাণ্ডবে_১_কোটি_মানুষ_ক্ষতিগ্রস্ত_মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায়
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে প্রায় ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মে ২৬, ২০২১ ১২:৫৪ Asia/Dhaka
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে প্রায় ১ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন।

তিনি আজ (বুধবার) দুপুরে রাজ্য সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন। 

পশ্চিমবঙ্গে আজ ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা, হাওড়া জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবনে বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী (শুক্রবার) দু’দিনের সফরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন।       

মমতা বলেন, ‘দুর্যোগে তিন লাখের বেশি বাড়ি এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে সরেজমিনে জরিপ করা হবে। রাজ্যে ১৪ হাজার ত্রাণ শিবির চলছে। এই মুহূর্তে ১৩৪ টা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরও বাড়বে এই সংখ্যা। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ কোটি টাকার ত্রাণ সামগ্রী এরইমধ্যে পাঠানো হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত একজন দুর্ঘটনাজনিত কারণে মারা গেছেন। ওই ব্যক্তি ত্রাণ শিবিরে থাকলেও মাঠে জাল ফেলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় ডুবে মারা গেছেন।’

ক্ষতিগ্রস্ত ব্লক এলাকার বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সন্দেশখালি-১, সন্দেশখালি-২, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ, হাড়োয়া, নামখানা, পাথর প্রতিমা, নামখানা, গোসবা, কুলপি, ফ্রেজারগঞ্জ, বাসন্তী, ক্যানিং-১, ক্যানিং-২, বজবজ, দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, রামনগর-১, রামনগর-২, কন্টাই-১, কন্টাই-২, কন্টাই-৩, নন্দীগ্রাম-১ ও ২, সুতাহাটা, মহিষাদল, দেশপ্রাণ, কোলাঘাট, শ্যামপুর-১ ও ২, উলুবেড়িয়া-১ ও ২, বাগনান-১ ও ২, সাকরাইল ও অন্যত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মমতা বলেন, ‘কোলকাতার কালীঘাট, চেতলা, রাসবিহারী ও অন্যত্র গঙ্গা নদী সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নোনা জল ঢুকে কৃষিজমি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট পাওয়া গেলেও জেলা প্রশাসকরা পরে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাবেন।’

আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত প্লাবনের আশঙ্কা থাকায়, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নদীর পাশে, সাগরের পাশে বা  গঙ্গার পাশে থাকেন তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো হয়। আজ দুপুরে কোলকাতার আশেপাশে যেসব এলাকা প্লাবিত হয়েছে আমি কোলকাতার পুলিশ কমিশনারকে বলব, সমস্ত থানাকে সতর্ক করার জন্য যাতে রাত ৮টা  ৪৫ মিনিটে যে বান আসবে তা দেখার জন্য। দরকার হলে এলাকায় এলাকায় মাইকের সাহায্যে প্রচার করতে হবে যে রাতে বান আসতে পারে। কালকেও বান আসবে, কিন্তু আপনারা ভয় পাবেন না। কিন্তু দয়া করে কেউ জলে নামবেন না। নিজেরা সতর্ক থাকুন’ বলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন।#

পার্সটুডে/এমএএইচ/আবুসাঈদ/২৬

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।