ভারতে করোনা পরিস্থিতিতে ঈদ-উল-আযহায় বিভিন্ন রাজ্যে কঠোর বিধিনিষেধ
ভারতে করোনা পরিস্থিতিতে ঈদ-উল-আযহাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বেসরকারি হিন্দি টিভি চ্যানেল ‘আজতক’-এর ওয়েবসাইটে বিধিনিষেধের বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
‘আজতক’-এ বলা হয়েছে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিহারের রাজধানী পাটনার ঈদগাহ বা মসজিদে নামাজ আদায় করা যাবে না। পাটনা জেলা প্রশাসনের জারি করা আদেশে করোনা মহামারিজনিত কারণে লোকেদের বাসায় থেকে নামাজ আদায় করার আবেদন করা হয়েছে। পাটনার গান্ধী ময়দান মসজিদ বা ঈদগাহে জড়ো হয়ে নামাজ না পড়ার জন্য বলা হয়েছে।
একইসঙ্গে, পাটনা প্রশাসন জানিয়েছে ‘ঈদ-উল-আযহা’র দিন করোনার সংক্রমণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র বিভাগ আদেশ জারি করেছে যে সমস্ত ধর্মীয়স্থান সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখতে হবে। সবধরণের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন আরও বলেছে, সরকারী ও বেসরকারী কোনও অনুষ্ঠান প্রকাশ্যস্থানে আয়োজন করা যাবে না। প্রকাশ্যে ‘ঈদ-উল-আযহা’ উৎসব পালনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। লোকেরা ঘরে বসে উত্সব উদযাপন করুন।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রসহ অনেক রাজ্যে করোনা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে মসজিদে জামাতে নামাজে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে দিল্লি, হায়দরাবাদ, চেন্নাই এবং কোলকাতার মতো শহরে মুসুল্লিরা তাদের স্থানীয় মসজিদে সীমিত সংখ্যায় জমায়েত হতে পারবেন।
বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে, ‘ঈদ-উল-আযহা’ উপলক্ষে সরকার গরু এবং উট কুরবানি নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া এক জায়গায় ৫০ জনের বেশি লোকের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকার প্রকাশ্য স্থানে পশু কুরবানি নিষিদ্ধ করেছে।
বামশাসিত কেরালা সরকার অবশ্য ‘ঈদ-উল-আযহা’ উপলক্ষে ১৮ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত কোভিড-১৯ লকডাউন নিষেধাজ্ঞাকে শিথিল করেছে। রাজ্যে কাপড়, জুতো, ইলেক্ট্রনিক্স, গহনা বিক্রয়কারী দোকানগুলোকে খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কেরালা সরকারের বিরুদ্ধে এক আবেদনের বিষয়ে শুনানি করবে সুপ্রিম কোর্ট।
অন্ধ্র প্রদেশ সরকার জনগণকে বড় সমাবেশ এড়াতে বলেছে। সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করা চলবে না। রাজ্য সরকার মসজিদে নামাজ পড়ার অনুমতি দিলেও মসজিদে কেবল ৫০ শতাংশ মানুষজনকে আসতে দেওয়া হবে। এ সময়ে, সামাজিক দূরত্বের মতো বিধিনিষেধ কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
বিজেপিশাসিত অসমে করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্য সরকার ৫ টি জেলায় কারফিউ ঘোষণা করেছে। এমনকি ঈদের দিনেও ইমামসাহেবসহ মাত্র ৫ জন মসজিদে নামাজ পড়তে পারবেন। রাজ্য সরকার ঘরে বসে জনগণকে ঈদ উদযাপনের আবেদন করেছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডের ঈদের জামাত হচ্ছে না। অন্যান্য জায়গায় বড় জামাতে বিধিনিষেধ রয়েছে।
পার্সটুডে/এমএএইচ/বাবুল আখতার/ ২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।