হাস্যকর অভিযোগে ইরানের বিরুদ্ধে ফের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i100190-হাস্যকর_অভিযোগে_ইরানের_বিরুদ্ধে_ফের_মার্কিন_নিষেধাজ্ঞা_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করার অভিযোগে ইরানের ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
নভেম্বর ১৯, ২০২১ ১২:৪৮ Asia/Dhaka

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব সৃষ্টি করার অভিযোগে ইরানের ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ওই মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করার অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়েছে, ইরানসহ আরো কয়েকটি দেশের সমর্থনে হ্যাকাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা চালিয়েছিল। তারা মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ভোটারদেরকে নিরুৎসাহিত করার এবং মার্কিন সমাজে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছিল। এমনকি ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি ইমেইলে হুমকি দেয়া ও বানোয়াট ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ারও অভিযোগ আনা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

তবে ইরানের ওপর আমেরিকার পক্ষ থেকে নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দেশটির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এতকালের ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি বলে মন্তব্য করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে বলেছেন, 'আমেরিকার নয়া নিষেধাজ্ঞাকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিরোধী সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের ব্যর্থ নীতির পুনরাবৃত্তি বলে বিবেচনা করছে ইরান।'

যাইহোক মিথ্যা অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় ইরানের বিরুদ্ধে ফের নিষেধাজ্ঞা দিল যখন বাইডেন প্রশাসন ইরানের ব্যাপারে বহুবার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং এখনো ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জিন সাকি বলেছেন, ইরানের ব্যাপারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

আরেকটি বিষয় হচ্ছে মার্কিন সরকার সেদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ইরানের ছয় ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য সবসময়ই বিরোধী দেশগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ উত্থাপন করে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে খোদ ওয়াশিংটনই বহু বছর ধরে অন্য দেশের নির্বাচনে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করে আসছে। এমনকি অভ্যুত্থান পর্যন্ত ঘটায়। এবারও বাইডেন সরকার মিথ্যা অজুহাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শুধু ইরান নয় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গেও একই আচরণ করছে আমেরিকা। অথচ তারা ইরান, রাশিয়াসহ আরো বহু দেশের নির্বাচনের সময় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। রুশ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ পাওয়েল শারিকোভ এ ব্যাপারে বলেছেন, রুশ-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অবনতির বড় কারণ হচ্ছে রাশিয়ার বিষয়টি মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইরানের  ব্যাপারে মার্কিন আচরণের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় ইরানে ইসলামি বিপ্লবের অনেক আগে ১৯৫৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের সরাসরি হাত ছিল। ১৯৭৯ সালে বিপ্লবের পরও ইরানের নির্বাচনে অংশ নিতে জনগণকে নিরুৎসাহিত করার জন্য আমেরিকা ব্যাপক চেষ্টা চালায়। এরপর ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে জনগণকে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উস্কানি দেয় আমেরিকা। এখনো তারা ইরানের নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় মিথ্যা অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।  

পার্সটুডে /রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।