ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান সফর: আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i101600-ইরাকের_পররাষ্ট্রমন্ত্রীর_ইরান_সফর_আঞ্চলিক_প্রেক্ষাপটে_এর_গুরুত্ব
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে সেদেশের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল ইরান সফরে এসেছেন। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসেম আল আরাজিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ২৩, ২০২১ ১৩:২১ Asia/Dhaka

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে সেদেশের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দল ইরান সফরে এসেছেন। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসেম আল আরাজিসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন।

 ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান কিছুদিন আগে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে দেয়া এক বার্তায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তার এবং  ইরাকের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য তেহরানের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন। ইরাকের প্রতিনিধি দলের ইরান সফর এমন সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সম্প্রতি ইরাকে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য দুই বার বৈঠক পিছিয়ে দেয়ার পর দেশটির ফেডারেল আদালত জানিয়েছে এ বিষয়ে আগামী রবিবার মতামত জানানো হবে। এদিকে ইরাকের সামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযানের কমান্ডারও সেদেশের দু'টি সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের খবর দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নানাবিধ সংকটে জর্জরিত ইরাককে সহযোগিতায় প্রতিবেশী ইরান একমাত্র দেশ যে কিনা সবসময়ই তাদের পাশে রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ ইরাকে উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস জঙ্গিদের তাণ্ডবের সময় একমাত্র ইরান ইরাকের সরকার ও জনগণের পাশে ছিল এবং ইরানের সহযোগিতায় জঙ্গিদেরকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ইরাকের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ক্ষেত্রে উন্নয়নেও ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রয়েছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ সন্ত্রাসবাদ দমন এবং ইরাকের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরানের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, ইতিহাস সাক্ষী যে ইরাকের দুঃসময়ে ইরান সবসময়ই আমাদের পাশে ছিল এবং এ বিষয়টি ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার আরব দেশগুলোর মধ্যে ইরানের সঙ্গে ইরাকের রয়েছে সবচেয়ে বেশি অভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন। এ ছাড়া দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় গড়ে উঠেছে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সম্পর্ক। অবশ্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরাক ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার এবং দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য আমেরিকা ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা ইরাকের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু তারপরও বাণিজ্য সম্পর্ক অটুট রয়েছে। বর্তমানে দুদেশের বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ দুই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইরাক ও ইরানের সম্পর্ক প্রতিবেশীসূলভ সম্পর্কেরও অনেক ঊর্ধ্বে। এই দুই দেশ আঞ্চলিক যে কোনো সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরই আলোকে ইরাকের প্রতিনিধি দলের ইরান সফরকে  গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। #                

 পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।