ঢাকা সফরে ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিন মোমেন ও শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করলেন আলী বাকেরি কানি
ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার গভীর বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে দু’দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে ঢাকা ও তেহরান। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় পররাষ্ট্র দপ্তর কনসালটেশন বৈঠকে দু’দেশের কূটনীতিকরা এ বিষয়ে একমত হন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং ইরানের প্রথম উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলী বাকেরি কানি নিজ নিজ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দু’পক্ষ দু’দেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক আয়োজন করতে এবং সংসদীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করতে সম্মত হন।
ইরান ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিনিধিরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহযোগিতা বিশেষ করে শিল্প ও খনিজ খাতে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে মতৈক্যে পৌঁছান। বাকেরি কানি ও মোমেন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলো নিয়েও আলোচনা ও মত বিনিময় করেন।
ইরানি কূটনীতিক বলেন, তার দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে মানবাধিকারের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, যেসব শক্তি বহু দশক ধরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার লঙ্ঘন করে যাচ্ছে এবং ইহুদিবাদী ইসরাইলের দখলদারিত্ব, গণহত্যা ও দমন অভিযানকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে মানবাধিকার নিয়ে কথা বলার অধিকার তাদের নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইরানের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাকেরি কানি।তারা ওআইসি’র গঠনকাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ব্যাপারে তেহরানের সহযোগিতা চায় ঢাকা। আলী বাকেরি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের প্রতি ইরানের পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে তাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সম্ভাব্য সব রকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।#
পার্সটুডে/এমএমআই/২৪