এক নজরে ইরানি রসায়নবিদ ফাতেমা ফারজাদিয়ানের প্রচেষ্টা ও কৃতিত্ব
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i135212-এক_নজরে_ইরানি_রসায়নবিদ_ফাতেমা_ফারজাদিয়ানের_প্রচেষ্টা_ও_কৃতিত্ব
৪৩ বছর বয়সি সফল ইরানি রসায়নবিদ মিসেস ফাতেমা ফারজাদিয়ান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২% বিজ্ঞানীদের কাতারে নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
মার্চ ০৫, ২০২৪ ০৭:১৪ Asia/Dhaka
  • ইরানি রসায়নবিদ ফাতেমা ফারজাদিয়ান
    ইরানি রসায়নবিদ ফাতেমা ফারজাদিয়ান

৪৩ বছর বয়সি সফল ইরানি রসায়নবিদ মিসেস ফাতেমা ফারজাদিয়ান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২% বিজ্ঞানীদের কাতারে নিজের নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছেন।

ইরানে স্মাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করা ফারজাদিয়ান বলেন: আমি জার্মানির ডুইসবার্গ-এসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করার সুযোগ পেয়েছি এবং ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানো সায়েন্স রিসার্চ সেন্টারে সাইন্টিফিক ভিজিট করেছি। বর্তমানে আমি ইরানের শিরাজ ইউনিভার্সিটি অফ মেডিকেল সায়েন্সের ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেস রিসার্চ সেন্টারে একজন সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছি।

বিষক্রিয়ার চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন

ফারজাদিয়ান তার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন: ২০০৭ সালে আমি ন্যানোকম্পোজিটের সংশ্লেষণের সঙ্গে পরিচিত হই এবং সেগুলি প্রস্তুত করতে শুরু করি। আমার কাজের মূল ফোকাস ছিল ন্যানোস্ট্রাকচার।  এই যৌগগুলি নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ক্যাটালাইসিস, ওষুধের বাহক এবং প্রতিষেধক হিসাবে ন্যানোস্ট্রাকচারের ব্যবহার রয়েছে।

তিনি বলেন: আমি ২০১৩ সালে শিরাজ ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সে যোগ দেই এবং তখন থেকে আমি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করার লক্ষ্যে ন্যানোস্ট্রাকচারকে ভিত্তি করে আমার কাজ চালিয়ে যাই।

ফাতেমা ফারজাদিয়ান

ইরানের এই নারী বিজ্ঞানী আরো বলেন: ২০১৬ সালে আমি স্প্রিংগার পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশন অব পলিমারস অ্যান্ড স্মার্ট কোটিংস’ বইয়ের ‘ইনটেলিজেন্ট ন্যানো-সাইজ হোস্ট রেসপন্সিভ টু স্টিমুলি ইন ড্রাগ ডেলিভারি’ শিরোনামের একটি অধ্যায় লেখার কাজে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হই। বই লেখার ওই কাজ করতে গিয়ে আমাকে যে গবেষণা করতে হয় তা স্মার্ট যৌগ তৈরির গবেষণায় আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করে।

উদ্ভাবনি কাঠামো এবং অভিনব প্রয়োগের সঙ্গে সমন্বয়

ইরানের এই নারী বিজ্ঞানী নতুন যৌগগুলি দিয়ে নয়া ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন: আমার হাতে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলিতে যে যৌগগুলি প্রস্তুত ও প্রয়োগ করা হয়েছিল সেগুলোর হয় একটি উদ্ভাবনি কাঠামো ছিল অথবা সেগুলোকে একটি অভিনব কৌশলে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন: আমার গবেষণায় যে স্মার্ট হাইড্রোজেলগুলি চালু করা হয়েছিল তাতে জৈব সামঞ্জস্যপূর্ণ কাঠামো রয়েছে যা পরিকল্পিত উপায়ে ক্যান্সারযুক্ত টিস্যুতে ওষুধ সরবরাহ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই যৌগগুলি স্বাস্থ্যকর টিস্যুগুলির ক্ষতি না করে কোষের উদ্দীপনার উপর ভিত্তি করে ক্যান্সার আক্রান্ত টিস্যুতে উচ্চ-ঝুঁকির ওষুধ সরবরাহ করে।

ক্লিনিক্যাল পর্যায়ের কাজে রাইস পিলের প্রতিষেধক

ইরানি এই নারী বিজ্ঞানী বলেন: রাইস পিলের প্রতিষেধকের ক্ষেত্রে একটি নতুন উদ্ভাবন ঘটেছে এবং এর ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে যা ক্লিনিকাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। 

মিসেস ফাতেমা ফারজাদিয়ান বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রেফারেন্সসমৃদ্ধ গবেষকদের একজন হয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি এই সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন: আমি ন্যানোস্ট্রাকচার যৌগগুলির ক্ষেত্রে যে গবেষণা করেছি বিশ্ব পর্যায়ে এই গবেষণার অনেক রেফারেন্স রয়েছে। এর ফলে আমার নাম বিশ্বের সবচেয়ে বেশি রেফারেন্সসমৃদ্ধ ২% গবেষকদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট তালিকা স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সম্মিলিত সূচকের উপর ভিত্তি করে স্কোপাস বৈজ্ঞানিক সূচক পরীক্ষা করে ঘোষণা করেছেন।

ধর্ম আমাকে জন্মভূমি ত্যাগ করে অভিবাসী হতে বাধা দেয়

ফাতেমা ফারজাদিয়ান দেশত্যাগ করার সুযোগ পেয়েও দেশপ্রেমের কারণে ইরানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন: বিজ্ঞানীদের পক্ষে দেশত্যাগ করা অবশ্যই সম্ভব। আমাকেও বেশ কয়েকবার প্রস্তাব করা হয়েছিল, তবে আমি স্বদেশের জন্য নির্ধারিত কাজের দায়িত্ববোধ এবং ধর্মের কারণে সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি।

পরিবারই প্রধান অনুপ্রেরণা

শিরাজ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক পরিবারকে তার প্রধান অনুপ্রেরণা বলে মনে করেন। তিনি বলেন: আমার প্রধান প্রেরণা হলেন আমার মরহুম বাবা, মা, ভাই এবং আমার স্বামী।#

পার্সটুডে/এমএমআই/৫

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।