যেসব কারণে ইসরাইল ইরানের পেজেশকিয়ানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন?
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i139836-যেসব_কারণে_ইসরাইল_ইরানের_পেজেশকিয়ানকে_নিয়ে_উদ্বিগ্ন
পার্সটুডে-আটলান্টিক পরিষদের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রবন্ধে ইরানের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে নিয়ে ইসরাইলের গভীর আতঙ্কের কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ২২, ২০২৪ ১৪:২৬ Asia/Dhaka
  • যেসব কারণে ইসরাইল ইরানের পেজেশকিয়ানকে নিয়ে উদ্বিগ্ন?

পার্সটুডে-আটলান্টিক পরিষদের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রবন্ধে ইরানের নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে নিয়ে ইসরাইলের গভীর আতঙ্কের কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। 

"পেজেশকিয়ানের নির্বাচন ইসরায়েলের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে" শীর্ষক প্রবন্ধটিতে রাজ জিম্মত এইসব কারণ তুলে ধরেছেন। তার মতে এসব কারণ হচ্ছে-

প্রথমত: প্রতিরোধ অক্ষের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে পেজেশকিয়ানের অঙ্গীকার। গত ৮ জুলাই লেবাননের জনপ্রিয় ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ  হাসান নাসরুল্লাহ'র কাছে লেখা এক চিঠিতে পেজেশকিয়ান প্রতিরোধ-অক্ষের প্রতি ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থন দেয়া ইসলামী ইরানের মৌলিক নীতিমালার অংশ এবং এই নীতি জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে। ইসলামী ইরান অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণ-প্রতিরোধকে সব সময়ই সমর্থন করে এসেছে বলেও তিনি ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছেন। 

দ্বিতীয়ত: ইহুদিবাদী ইসরাইলের ব্যাপারে ইরানের কঠোর ও আক্রমণাত্মক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না পেজেশকিয়ানের নির্বাচনের কারণে। জিম্মত লিখেছেন ইরানের নির্বাচনে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেজেশকিয়ানের বিজয় তেহরানের ইসরাইল নীতিতে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনবে না বলেই ইসরাইলিরা মনে করছে। 

তৃতীয়ত: জিম্মতের মতে  ইসলামী ইরানের প্রেসিডেন্টরা পররাষ্ট্র বিষয়ের চেয়ে ঘরোয়া বিষয়েই বেশি কর্তৃত্ব রাখেন। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও এই বাহিনীর কুদস্‌ ব্রিগেড আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ও সামর্থ্য বেশ কম। তার এই বক্তব্য বা ধারণা নানা ভুল থাকা সত্ত্বেও এটা স্পষ্ট বিশ্বের বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক দেশেই সরকার একা পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করে না, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতীয় সংসদও এক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখে।  যাই হোক্ ইসরাইলিরা এটা বুঝতে পারছে যে ইসরাইলের ব্যাপারে ইরানের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আর তাই ইহুদিবাদী ইসরাইলি চক্রগুলো হতাশ। 

চতুর্থ কারণ হল: পাশ্চাত্যের সঙ্গে সংলাপ ও সম্পর্কের উন্নতি ঘটার সম্ভাবনায় আতঙ্কিত ইসরাইল। এই লেখকের মতে ইরানের সাবেক পরমাণু আলোচক ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পেজেশকিয়ানের মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। আর এ বিষয়টি ইসরাইলের জন্য নেতিবাচক বলে তিনি মনে করেন। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আরাকচির নিয়োগের ফলে ইরানের পরমাণু বিষয়ে পাশ্চাত্যের সঙ্গে সংলাপে অগ্রগতি হলে ও এ বিষয়ে একটি রাজনৈতিক সমাধান পাওয়া গেলে তা ইসরাইলের জন্য ক্ষতিকর হবে। 

পঞ্চম কারণ হল ইরানের পরমাণু ও সামরিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরাইলের উদ্বেগ। ইরানের অতি উন্নত পর্যায়ের পারমাণবিক ও সামরিক কর্মসূচি, বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও উন্নত ড্রোন ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ। ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামী জিহাদের মত দলগুলোকে সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। ফলে এ বিষয়টি ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে এই প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে  লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।