'ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ইরাকিদের বিদায়ি শ্রদ্ধার দৃশ্য বিশ্বে এক অনন্য বার্তাবাহী'
ইহুদিবাদী ইসরায়েল সব মুসলিম দেশের এক নম্বর শত্রু: কলিবফ
-
তেহরানে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জায়েদির বৈঠক
পার্সটুডে - ইরানের জাতীয় সংসদ ইসলামী পরামর্শ পরিষদের (মজলিস) স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফ বলেছেন, জায়নবাদী তথা ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী নিঃসন্দেহে সব মুসলিম দেশের শত্রু।
তিনি বলেছেন, মুসলমানদের এক নম্বর শত্রু এই জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য বজায় রাখতে ইরান ও ইরাকের সহযোগিতা অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পার্সটুডে, ইরনা বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জায়েদির সঙ্গে বৈঠকে কলিবফ ইরাকের জনগণ ও সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের শহীদ সর্বোচ্চ বিপ্লবী নেতার পবিত্র লাশ ইরাকের বিভিন্ন শহরে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণভাবে বহন ও শেষ শ্রদ্ধা জানানোর আয়োজন করার জন্য ইরাকের জনগণ ও সরকার প্রশংসার দাবিদার।
তিনি তেহরান ও বাগদাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান ও ইরাকের সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জন্য নয়, একইসঙ্গে পুরো অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক বহু সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম।
কলিবফ আরও বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের শাসকগোষ্ঠী নিঃসন্দেহে সব মুসলিম দেশের শত্রু। মুসলিম বিশ্বের এক নম্বর শত্রুর বিরুদ্ধে সব মুসলিম দেশের ঐক্য সুদৃঢ় করতে ইরান ও ইরাকের যৌথ প্রচেষ্টা নিশ্চিতভাবেই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
এদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী ফালেহ আল-জায়েদি শহীদ বিপ্লবী নেতার লাশ মুবারকের শোকযাত্রা আয়োজনে ইরাকের জনগণ ও সরকারের প্রতি কালিবাফের কৃতজ্ঞতার জবাবে বলেন, "এ জন্য ধন্যবাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা এটিকে আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। তাঁকে হারানো মানে কোনো সাধারণ ব্যক্তিকে হারানো নয়; বরং আমরা শিয়া বিশ্বের অন্যতম মহান ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছি।"
তিনি আরও বলেছেন, শহীদ বিপ্লবী নেতার প্রতি বিশ্বজুড়ে মুসলমান, বিশেষ করে শিয়াদের যে গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে, তা অর্থ-সম্পদ দিয়ে অর্জন করা যায় না। মানুষের হৃদয় জয় করতে হয় কর্ম ও আদর্শের মাধ্যমে। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ইরাকে যে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁর জানাজা ও শোক-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন, তা ছিল অসাধারণ এবং সেই দৃশ্য বিশ্বের কাছে একটি অনন্য বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।