'আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারীর অভাব নেই'
ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গিই প্রধান সমস্যা: আরাকচি
-
ইসলামী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাকচি
পারসটুডে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়ে্যদ আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কে অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা হল ওয়াশিংটনের অযৌক্তিক নানা দাবী ও আবদার এবং আধিপত্যকামী নীতি।
তিনি বলেছেন, যতদিন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তার এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে ইরানের জনগণ ও তাদের স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রদর্শন না করবে, ততদিন এই পথে অগ্রগতির কোনো সুযোগ সৃষ্টি হবে না।
পার্স টুডের খবরে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালেহ আল-জায়েদিকে স্বাগত জানানোর অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি।
আল-জায়েদি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁর দ্বিতীয় বিদেশ সফরে তেহরান সফরে এসেছেন।
ওয়াশিংটন থেকে বাগদাদের মাধ্যমে তেহরানে বার্তা পাঠানো হচ্ছে—এমন জল্পনা সম্পর্কে আরাকচি বলেন, “তিনি (ইরাকের প্রধানমন্ত্রী) ওয়াশিংটন সফর করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই ওই সফর সম্পর্কে তাঁর মতামত ও পর্যবেক্ষণ আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বিষয়। তবে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্যা কোনো মধ্যস্থতাকারী নিয়ে নয়। এই ভূমিকা পালনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন এবং বার্তা আদান-প্রদানে বাস্তবে কোনো সমস্যা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “মূল সমস্যা হলো যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। এটি একটি অযৌক্তিক, অতিরিক্ত দাবি-ভিত্তিক এবং আধিপত্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, যার জবাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। যতদিন পর্যন্ত মার্কিন পক্ষ উপলব্ধি না করবে যে, ইরানের জনগণ ও তাদের স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখানো ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই, ততদিন এই প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির ক্ষেত্রও তৈরি হবে না। এ জন্য কোনো বার্তা আদান-প্রদানের প্রয়োজন নেই; যুক্তরাষ্ট্র তার নীতিতে পুনর্বিবেচনা করলেই যথেষ্ট।”
ইরান-ইরাক নিরাপত্তা চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আরাকচি বলেন, “ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা চুক্তি আমাদের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পর্যন্ত এটি সন্তোষজনক মাত্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কিছু বিষয়ে এখনও কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে, আশা করি সেগুলোও দূর হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আরবাঈনও তেহরান ও বাগদাদের চলমান আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক আগে থেকেই ইরাকে আমাদের বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছর আরবাঈনের বিশাল আয়োজনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ও লজিস্টিক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা হয়। এ দিক থেকে কোনো সমস্যা নেই। আমি নিশ্চিত, এ বছরও আরবাঈনের অনুষ্ঠান আগের চেয়ে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।” #