গোরগান প্রাচীর: প্রাচীন ইরানের হারিয়ে যাওয়া প্রকৌশল বিস্ময়
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i162914-গোরগান_প্রাচীর_প্রাচীন_ইরানের_হারিয়ে_যাওয়া_প্রকৌশল_বিস্ময়
পার্সটুডে: উত্তর ইরানের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল স্থাপনা আজও সাক্ষ্য দেয় সাসানীয় সাম্রাজ্যের অসাধারণ প্রকৌশল দক্ষতা ও সামরিক পরিকল্পনার। গোরগান প্রাচীর শুধু একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল নয়, বরং এটি ছিল দুর্গ, ইট উৎপাদন কেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বিশাল সামরিক অবকাঠামো।
(last modified 2026-09-08T11:08:06+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ১৭:০৩ Asia/Dhaka
  • গোরগান প্রাচীর: প্রাচীন ইরানের হারিয়ে যাওয়া প্রকৌশল বিস্ময়

পার্সটুডে: উত্তর ইরানের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এক বিশাল স্থাপনা আজও সাক্ষ্য দেয় সাসানীয় সাম্রাজ্যের অসাধারণ প্রকৌশল দক্ষতা ও সামরিক পরিকল্পনার। গোরগান প্রাচীর শুধু একটি প্রতিরক্ষা দেয়াল নয়, বরং এটি ছিল দুর্গ, ইট উৎপাদন কেন্দ্র ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বিশাল সামরিক অবকাঠামো।

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গোলেস্তান প্রদেশে অবস্থিত এই প্রাচীর প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি আলবোর্জ পর্বতমালার কাছ থেকে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খ্রিস্টীয় পঞ্চম থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে সাসানীয় শাসকদের আমলে নির্মিত এই স্থাপনা উত্তর দিক থেকে আসা যাযাবর আক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

পোড়ানো লাল ইটের কারণে স্থানীয়ভাবে এটি ‘লাল সাপ’ নামে পরিচিত। বিশ্ব ইতিহাসে চীনের মহাপ্রাচীর বা রোমানদের প্রতিরক্ষা দেয়ালগুলোর মতো বেশি আলোচিত না হলেও, গোরগান প্রাচীর দৈর্ঘ্য ও নির্মাণ কৌশলের দিক থেকে প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়।

প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্রিটেনের হ্যাড্রিয়ানের প্রাচীর ও অ্যান্টোনাইন প্রাচীরের সম্মিলিত দৈর্ঘ্যের চেয়েও দীর্ঘ। এটি কনস্টান্টিনোপলের কাছে নির্মিত রোমানদের দীর্ঘতম প্রতিরক্ষা প্রাচীর অ্যানাস্তাসিয়ান প্রাচীরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি দীর্ঘ।

২০ কোটি ইটের অসাধারণ নির্মাণ

গোরগান প্রাচীরের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর নির্মাণ প্রযুক্তি। যে এলাকায় এটি নির্মিত হয়েছিল, সেখানে পর্যাপ্ত পাথর বা কাঠ পাওয়া যেত না। তাই সাসানীয় প্রকৌশলীরা পুরো প্রাচীরটি পোড়ানো ইট দিয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।

গবেষকদের ধারণা, এই বিশাল স্থাপনা নির্মাণে প্রায় ২০ কোটি ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিটি ইটের ওজন ছিল প্রায় ২০ কেজি। এত বিপুল পরিমাণ ইট তৈরির জন্য প্রাচীরের পুরো পথজুড়ে তৈরি করা হয়েছিল অসংখ্য ইটভাটা।

প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাচীরের পাশে ৩৭ থেকে ৮৬ মিটার পরপর ইট পোড়ানোর চুল্লির সন্ধান পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, এসব চুল্লির সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার।

পানি ব্যবস্থাপনায় সাসানীয়দের দক্ষতা

এত বড় নির্মাণ প্রকল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল পরিমাণ পানি। এই সমস্যার সমাধানে সাসানীয় প্রকৌশলীরা তৈরি করেছিলেন একটি উন্নত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

প্রাচীরের পাশে খনন করা হয়েছিল একটি বড় খাল, যার গভীরতা ছিল প্রায় ৫ মিটার। বিভিন্ন ছোট খালের মাধ্যমে সেখানে পানি সরবরাহ করা হতো। এই ব্যবস্থা শুধু নির্মাণকাজেই নয়, সম্ভবত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল।

গোরগান প্রাচীর প্রমাণ করে যে প্রাচীন ইরানের সাসানীয় সভ্যতা শুধু সামরিক শক্তিতে নয়, প্রকৌশল, স্থাপত্য ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও ছিল অত্যন্ত উন্নত।

আজও এই ঐতিহাসিক স্থাপনা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা প্রকল্প হিসেবে গবেষকদের আকর্ষণ করছে এবং সাসানীয় সাম্রাজ্যের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার এক অনন্য নিদর্শন হয়ে রয়েছে।#

পার্সটুডে/এমএএআর/৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।