হরমুজে ফের মার্কিন গোয়েন্দা ডুবোযান আটক, কী এই "রেমাস ৬০০"?
-
যুক্তরাষ্ট্রের 'স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান'- 'রেমাস ৬০০'
পার্সটুডে: ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর দ্বিতীয় ডুবোযান আটকের খবর জানিয়েছে।
আজ (রোববার) আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, "মহান আল্লাহর সাহায্যে, গোয়েন্দা নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সমন্বিত একটি জটিল অভিযানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর যোদ্ধারা হরমুজ প্রণালিতে গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে সক্রিয় মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর একটি উন্নত ডুবোযান আটক করতে সক্ষম হয়েছেন।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়: এই ডুবোযানটি ছিল একটি স্মার্ট ও অত্যাধুনিক পানির নিচের যান, যার নাম 'রেমাস ৬০০', যা নৌবাহিনীর যোদ্ধারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে দখলে নিয়েছেন এবং বর্তমানে তথ্য উদ্ধারের জন্য বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
আইআরজিসি তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে: "নৌবাহিনী দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছে যে, হরমুজ প্রণালি ইরানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, এবং এই প্রণালিতে বিপজ্জনক তৎপরতা ও অননুমোদিত পথে চলাচলের বিরুদ্ধে কর্তৃত্বের সঙ্গে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
'রেমাস ৬০০' আসলে কী?
রেমাস ৬০০ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ গবেষণা দপ্তরের (Office of Naval Research) অর্থায়নে তৈরি একটি 'স্বয়ংক্রিয় ডুবো যান' (Autonomous Underwater Vehicle-AUV), যা মূলত দীর্ঘস্থায়ী অভিযান, বাড়তি পেলোড বহন ও গভীরে কাজ করার সক্ষমতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এটি ৩২.৪ সেন্টিমিটার ব্যাসের এবং ওজনে প্রায় ২৪০ কেজি, যার সর্বোচ্চ কার্যক্ষম গভীরতা ৬০০ মিটার।
দেখতে অনেকটা ছোট টর্পেডোর মতো, দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩.২৫ মিটার। এটি একটানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পানির নিচে থাকতে পারে এবং পরিচালনাকারী থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে গিয়ে কাজ করতে সক্ষম। নেভিগেশনের জন্য এটি জিপিএসের পাশাপাশি ইনার্শিয়াল গাইডেন্স সিস্টেমও ব্যবহার করে।
রেমাস ৬০০ মূলত গোয়েন্দা নজরদারি ও পুনর্জাগরণ (আইএসআর), সমুদ্রতল যুদ্ধ, সামুদ্রিক ভূতত্ত্ব ও প্রত্নতত্ত্ব গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে — যা আইআরজিসির 'গুপ্তচরবৃত্তি'র অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে ধারণা করা যায়।#
পার্সটুডে/এমএআর/২৭