সাজানো অভিযোগে সৌদি আরবে পাঁচ শিয়া তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
-
শনিবার এই পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সৌদি আরবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সাজানো অভিযোগে শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত কাতিফ অঞ্চলের পাঁচ তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে সৌদি রাজপরিবারের নেতৃত্বে পরিচালিত কঠোর দমন-পীড়নের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার ওই পাঁচ নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ‘সন্ত্রাসী অপরাধে’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের এই সাজা দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান, অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী, নিরাপত্তা সদর দপ্তর এবং নিরাপত্তা যানবাহন লক্ষ্য করে গুলি চালানো, অস্ত্র ও তাজা গুলি রাখা এবং সৌদি আরবের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও অর্থায়নে সহায়তা করা।
কাতিফের ওই পাঁচ তরুণ হলেন—মোহাম্মদ বিন মুনির আল-জাহির, আলী বিন আবদুল হুসেইন আল-শেখ, হাসান বিন জাকি আল-ফারাজ, রেজা বিন মোহাম্মদ আল বু আবদুল্লাহ এবং আলী বিন হাসান আল-রাবাহ। তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে কয়েক বছর কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল।
কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ১৭০-এ দাঁড়িয়েছে।
ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থা কাতিফের পাঁচ তরুণের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে 'রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অংশ' হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে হাসান আল-ফারাজের বিরুদ্ধে শৈশবে সংঘটিত বলে উল্লেখ করা কর্মকাণ্ডের জন্যও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সৌদি আরবে রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা দেশটিতে এক বছরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা। তাঁদের মধ্যে ২৪০ জনকে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানায়। সংগঠনগুলো শান্তিপূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশের কারণে দণ্ডিত সৌদি নাগরিক, বিদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। #
পার্সটুডে/এমএআর/১৮