মহাকাশ থেকে স্থলভাগের টার্গেটে হামলার ইসরাইলি স্বপ্ন
https://parstoday.ir/bn/news/event-i162872-মহাকাশ_থেকে_স্থলভাগের_টার্গেটে_হামলার_ইসরাইলি_স্বপ্ন
পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরাইলি দখলদার শাসকগোষ্ঠী পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করছে।
(last modified 2026-09-07T15:09:59+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬ ১৬:৪২ Asia/Dhaka
  • মহাকাশ থেকে স্থলভাগের টার্গেটে হামলার ইসরাইলি স্বপ্ন
    মহাকাশ থেকে স্থলভাগের টার্গেটে হামলার ইসরাইলি স্বপ্ন

পার্সটুডে: ইহুদিবাদী ইসরাইলি দখলদার শাসকগোষ্ঠী পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম একটি ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে পর্যালোচনা করছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠী পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত “প্রজেক্ট থর” (Project Thor)-এর অনুরূপ একটি ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা যাচাই করছে। এই পরিকল্পনায় উপগ্রহ থেকে ভারী টাংস্টেনের দণ্ড ছেড়ে দেয়া হবে, যা অত্যন্ত উচ্চগতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে—এ ক্ষেত্রে কোনো বিস্ফোরক ওয়ারহেডের দরকার হবে না।

এই প্রকল্পের মধ্যে স্যাটেলাইট যোগাযোগব্যবস্থা, মহাকাশভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, সাইবার যুদ্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

আগামী দশ বছরে এই কর্মসূচির জন্য প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন তথা ৫৪০ কোটি মার্কিন ডলার। এটি বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ ধরনের উপগ্রহ, অত্যন্ত নির্ভুল নির্দেশনা ব্যবস্থা এবং বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় গতিপথ নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। তবে এই বাজেট এখনো অনুমোদিত হয়নি এবং তীব্র তাপ থেকে সুরক্ষা ও অত্যন্ত উচ্চমাত্রার নির্ভুলতা নিশ্চিত করার মতো প্রযুক্তিগত বাধাগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইলের এই পরিকল্পনা যদি কেবল ধারণাগত গবেষণা থেকে বাস্তব সামরিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়, তাহলে তা দেশটির সামরিক মতবাদে অন্যতম উচ্চাভিলাষী পরিবর্তন হতে পারে।

বিস্ফোরক ছাড়াই ভারী ধাতব বস্তু ব্যবহার করে, শুধুমাত্র তার গতিশক্তির মাধ্যমে স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ধারণাটি মূলত অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি বস্তুর গতিশক্তিকে ধ্বংসক্ষমতায় রূপান্তরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। সামরিক আলোচনায় এ ধরনের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত “প্রজেক্ট থর”-এর মতো পরিকল্পনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ইসরাইলের জন্য এই ধারণার গুরুত্ব মূলত এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত, যেগুলো ভূগর্ভের গভীরে বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষামূলক স্তরের আড়ালে অবস্থিত এবং প্রচলিত অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করা কঠিন।

কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে, এ ধরনের একটি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দূরপাল্লার হামলা, স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসরাইলের বিদ্যমান সক্ষমতার পরিপূরক হতে পারে।

একটি কক্ষপথভিত্তিক অস্ত্রের প্রধান সম্ভাব্য সুবিধা হবে এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ভিন্ন এবং সম্ভাব্য অপ্রচলিত আক্রমণপথ তৈরি করা, যেগুলোতে বিমান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সহজে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে উপগ্রহ আর শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে থাকবে না; বরং তা আক্রমণাত্মক সামরিক ব্যবস্থার একটি অংশে পরিণত হতে পারে। এর ফলে ইসরাইলের কথিত প্রতিরোধ সক্ষমতার ধারণাও বিস্তৃত হতে পারে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে হুমকি কেবল আকাশ বা স্থলপথ থেকেই নয়, মহাকাশ থেকেও আসতে পারে।

তবে কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় একটি ধারণা এবং বাস্তবে কার্যকর একটি অস্ত্র-ব্যবস্থার মধ্যে বিরাট ব্যবধান রয়েছে।

কক্ষপথ থেকে একটি ভারী বস্তু ছেড়ে দিয়ে সেটিকে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত করাতে হলে অত্যাধুনিক অবস্থান নির্ধারণ, নির্দেশনা, নিয়ন্ত্রণ এবং সময় নির্ধারণ প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে অত্যন্ত উচ্চগতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের ফলে প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন হবে এবং বস্তুটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।

এ ছাড়া, এ ধরনের ব্যবস্থা বহনকারী উপগ্রহকে মহাকাশভিত্তিক হুমকি এবং উপগ্রহবিধ্বংসী অস্ত্রের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে হবে। এত জটিল একটি ব্যবস্থা তৈরি, মহাকাশে উৎক্ষেপণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি হবে। দশ বছরে ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার তথা ৫৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের যে হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে, তা সঠিক হলে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের ব্যাপকতাই তুলে ধরে।

অন্যদিকে, আক্রমণাত্মক মহাকাশ অস্ত্রের ক্ষেত্রে ইসরাইলের প্রবেশ ব্যাপক ভূরাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের সক্ষমতার উন্নয়ন সম্ভবত অঞ্চলের অন্যান্য দেশকেও মহাকাশ পর্যবেক্ষণ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং উপগ্রহবিধ্বংসী সক্ষমতা জোরদারে উৎসাহিত করবে। এর ফলে মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা আরও জোরদারেরর আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া, উপগ্রহগুলোকে সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হলে মহাকাশের সামরিক ও বেসামরিক ব্যবহারের মধ্যকার সীমারেখা আরও অস্পষ্ট হয়ে পড়বে।

সব মিলিয়ে, এই পরিকল্পনা এখনো যদি কেবল গবেষণা বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়েও থাকে, তবুও এর গুরুত্ব হলো—এটি প্রতিরক্ষামূলক ও ভৌগোলিক বাধা অতিক্রমের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার ইসরাইলি প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।

এ ধরনের প্রযুক্তির মূল উদ্দেশ্য সম্ভবত প্রচলিত বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং অত্যন্ত সুরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে একটি “বাড়তি আক্রমণাত্মক বিকল্প” তৈরি করা

সুতরাং, স্বল্পমেয়াদে এই প্রকল্পের প্রকৃত গুরুত্ব এর বাস্তব যুদ্ধক্ষমতার চেয়ে বেশি লুকিয়ে রয়েছে এর কৌশলগত বার্তায়: ইসরাইল তার আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তির একটি অংশ মহাকাশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। মহাকাশ যদি আরও বেশি সামরিকীকরণের দিকে এগিয়ে যায়, তাহলে আগামী কয়েক দশকে এটি বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রতিযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। #

পার্সটুডে/এমএআর/০৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।