‘মানবাধিকার’ এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের হাতিয়ার
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i14530-মানবাধিকার’_এখন_সাম্রাজ্যবাদী_শক্তিগুলোর_রাজনৈতিক_স্বার্থ_পূরণের_হাতিয়ার
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপ রাষ্ট্রদূত গোলাম হোসেন দেহকান বলেছেন, মানবাধিকার বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অশুভ রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তিগুলোর অধীনস্থ হয়ে পড়েছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ১৪, ২০১৬ ১৩:২১ Asia/Dhaka

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপ রাষ্ট্রদূত গোলাম হোসেন দেহকান বলেছেন, মানবাধিকার বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অশুভ রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তিগুলোর অধীনস্থ হয়ে পড়েছে।

ইরানের উপ রাষ্ট্রদূত গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে এ সব কথা উল্লেখ করে বলেছেন, জাতিসংঘ এমন সময় বৃহৎ শক্তিগুলোর কব্জায় বন্দী হয়ে পড়েছে যখন বহু বড় বড় ব্যক্তিত্ব পৃথিবীতে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন যাতে মানবিয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা যায় যার জন্য নবী রাসূলরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, উপনিবেশবাদ, যুদ্ধ, দাস প্রথা, বর্ণবাদ প্রভৃতি যুগের প্রায় অবসান ঘটলেও বর্তমান মানব সমাজ নতুন নতুন সংকটের সম্মুখীন যা কিনা মানবাধিকারকে পদদলিত করছে। এমনকি ইউরোপ ও আমেরিকাতেও কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর হত্যাকাণ্ড এবং প্রতিবাদী মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতনের ঘটনা থেকে মানবাধিকার পরিস্থিতির ভয়াবহ অবস্থা অনুমান করা যায়। জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি তার বক্তব্যে এটাও বলেছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মানুষ সম্পদশালী এটা নিঃসন্দেহে শান্তি ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর ভূমিকার বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। সন্ত্রাসবাদের প্রতি তাদের সমর্থন, প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিরস্ত্রীকরণ এমন কি পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালনে অনীহা, নিজ ভাগ্য নির্ধারণে জাতিগুলোর অধিকার পদদলিত করা প্রভৃতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর স্বভাবে পরিণত হয়েছে এবং সব সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, মানবাধিকারের মিথ্যা দাবিদার দেশগুলো তাদের কোনো মিত্র দেশ যদি কোনো অন্যায় যুদ্ধে জড়িয় পড়ে এমনকি যদি শত শত শিশুও হত্যা করে তাহলেও এটাকে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে মনে করে না। উদাহরণ স্বরূপ সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক জোট ইয়েমেনে শত শত শিশু হত্যা করলেও শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশের তালিকা থেকে এই জোটকে বাদ দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আরব সামরিক জোটকে শিশু অধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে বলা হয় ইয়েমেনে নিহত ৭৮৫ শিশুর মধ্যে ৬০ শতাংশই তাদের হামলায় নিহত হয়েছে। কিন্তু জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব বান কি মুন অত্যন্ত লজ্জাজনকভাবে শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাদ দেয়ার কথা জানান। যদিও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, আমেরিকা ও সৌদি আরবের চাপের মুখে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। এ কারণে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি বলেছেন, এ সংস্থা বর্তমানে কেবল একটি বিশেষ মহলের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। তিনি জাতিসংঘের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে সাম্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মতো মানবিয় মূল্যবোধগুলো প্রতিষ্ঠা করা যায়। তিনি বলেন জাতিসংঘের উচিৎ মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়া এবং দ্বিমুখী নীতি পরিহার করা। #

পার্সটুডে/মোহাম্মদ রেজওয়ান হোসেন/১৪