ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র
বাকায়ি: ইউরোপীয়রা ইরানের ঘটনাবলি উল্টোভাবে তুলে ধরছে
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্স টুডে – ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন: ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান সফরে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন ও অধিকৃত ফিলিস্তিনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি আজ সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানে সন্ত্রাসী হামলা সম্পর্কে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য এবং ইসরায়ে দখলদার ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী অঞ্চলটির স্থিতিশীলতার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি। এই দখলদার কর্তৃপক্ষের আচরণ স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে তারা কোনো জাতিকেই তাদের ক্ষতিকর কর্মকান্ডের আওতা থেকে মুক্ত রাখার দরকার মনে করে না।
পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাকায়ি আরও বলেছেন: সাতটি দেশে হামলা, গাজায় চলমান গণহত্যা এবং এ অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচেষ্টা—এসবই দেখায় যে ইসরায়েলি হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আমরা বুঝতে পারছি যে ইসরায়েলি দখলদারি-ব্যবস্থার অস্থিতিশীলতামূলক ভূমিকা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে এক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেছেন: কিছু দেশ ইরান সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভণ্ডামিপূর্ণ মন্তব্য করছে। আমরা ইউরোপীয়দের কাছ থেকে গাজাসহ আঞ্চলিক ঘটনাবলি নিয়ে কোনো অবস্থান শুনিনি, কিন্তু ইরানের ঘটনাবলি তারা উল্টোভাবে উপস্থাপন করছে। এটি দেখায় যে এসব দেশের দ্বৈত মানদণ্ড কতটা স্পষ্ট, যা আমরা সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও প্রত্যক্ষ করেছি।
বাকায়ি হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে বলেছেন: লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষা কৌশল নির্ধারণের বিষয়টি লেবাননবাসীরাই জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেবে। বাস্তবতা হলো, ইসরায়েল কখনো কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি; হাজারোবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হয়েছে, অথচ যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তাদাতারা কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইরান সফর প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন: দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ সবসময়ই বিদ্যমান এবং আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আমরা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ওমানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করি। এই সফরে ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন ও অধিকৃত ফিলিস্তিনসহ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাকায়ি তাঁর বক্তব্যের আরেক অংশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ প্রসঙ্গে বলেছেন: এই পদক্ষেপ অবৈধ এবং আমরা সেই দেশগুলোর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি যারা এই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রীর মুক্তি দাবি করছে।
এই জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দপ্তরের কর্মকর্তাদের হাতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনা এবং তার সঙ্গে ইরানের বিক্ষোভের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন: এই সম্পর্কটি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ইরান সম্পর্কিত অবস্থানের দ্বিমুখী অবস্থান তথা দ্বিচারিতা তুলে ধরছে। একজন যুবতি কেবল পুলিশের সতর্কবার্তায় সময়মতো সাড়া না দেওয়ার কারণে নিহত হন, অথচ এখানে সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশ ও সাধারণ মানুষ হতাহত হলে আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন অবস্থান দেখছি। এতে স্পষ্ট হয় যে পশ্চিমা পক্ষগুলোর কথাবার্তা ও আচরণ কতটা অসৎ ও ভণ্ডামিপূর্ণ। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।