যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও শক্তির ভাষায় কথা বলতে পারে না: বাকায়ি
-
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেছেন, আমেরিকাকে অবশ্যই এই শিক্ষা নিতে হবে যে তারা ইরানের বিরুদ্ধে শক্তির ভাষায় কথা বলতে পারে না।
পার্সটুডে জানিয়েছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি সোমবার তার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার জন্য মার্কিন অভিযানের দাবি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী মার্কিন অভিযানের জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তারা দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে জানেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকাকে অবশ্যই এটা বুঝতে হবে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি ও শক্তির ভাষায় কথা বলতে পারে না। ইরান দেখিয়েছে তারা নিজেদেরকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার রক্ষক মনে করে। ৩১শে মার্চের আগে হরমুজ প্রণালী নৌচলাচলের জন্য একটি নিরাপদ স্থান ছিল। এই প্রণালীকে অনিরাপদ করে তোলার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহি করতে হবে। জাহাজ ও সংস্থাগুলোকেও বুঝতে হবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করতে হবে।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা বিষয়ে ফ্রান্সের বিবৃতির প্রসঙ্গে বাকায়ি বলেন: "আমাদের পরামর্শ হলো, দয়া করে বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করবেন না। ইরান যে পদক্ষেপগুলো নিয়েছে তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিয়েছে, যাতে ইরানের স্বার্থ লঙ্ঘিত না হয় এবং আইন বজায় থাকে। যদি তারা সংকট নিরসনে সাহায্য করতে চায়, তবে এই অঞ্চলে এবং এর বাইরে মার্কিন কর্মকাণ্ডের বিস্তার রোধ করাই হবে তাদের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। জলদস্যুতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলসীমাকে অনিরাপদ করে তুলেছে।"
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করার ক্ষেত্রে ইউরোপের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন: "আঞ্চলিক নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর যেকোনো গঠনমূলক ভূমিকাকে আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। আমরা পারমাণবিক বিষয় নিয়েও একই কথা বলেছিলাম, কিন্তু তারা ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিল।"
মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে অন্তত কিছু ইউরোপীয় দেশ এ বাস্তবতায় ফিরে এসে এসেছে এবং তারা উপলব্ধি করেছে যে, আমেরিকার প্রতি আনুগত্য বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের অনুকূল নয়। আমরা আশা করি, ইউরোপীয় দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপারে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করবে।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন