হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো খরচ ছাড়াই চলাচল করতে পারবে
ইরান তার অধিকার থেকে কোনোভাবেই পিছু হটবে না: কলিবফ
-
ইরানি আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ ইরানি জনগণের উদ্দেশে একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন।
পার্সটুডে– ইরানের আলোচক কমিটির প্রধান বলেন, সমঝোতা পাঠ্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে তেল ও বাণিজ্যিক নৌযানগুলো প্রণালি (হরমুজ প্রণালি) দিয়ে শুধু ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো খরচ ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই হরমুজ প্রণালিতে তার অধিকার থেকে পিছু হটবে না, কারণ এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা।
ইরানের সংসদের বরাতে ইরনা জানিয়েছে, ইরানের সংসদ স্পিকার ও আলোচক কমিটির প্রধান মোহাম্মদবাকের কলিবফ মঙ্গলবার রাতে ইরানি জনগণের উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে বলেন, পাঁচটি ধারা পুরোপুরি চূড়ান্ত ও স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী ধাপের বাস্তবায়নে ইরান যাবে না।
তিনি বলেন, সমঝোতার প্রথম ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে লেবাননের সার্বভৌমত্ব তার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানচিত্র অনুযায়ী বজায় থাকবে। অর্থাৎ যুদ্ধ অবশ্যই বন্ধ হতে হবে, আর কোনো সামরিক অভিযান চালানো যাবে না এবং জনগণকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে দিতে হবে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যেসব শক্তি লেবাননের কিছু অংশ দখল করে রেখেছে এবং যুদ্ধকে কার্যত যুদ্ধবিরতির আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছিল, তাদের অবশ্যই সেখান থেকে সরে যেতে হবে।
“আলোচনা একটি সংগ্রামের পদ্ধতি”
কলিবফ বলেন, আলোচনা একটি সংগ্রামের পদ্ধতি এবং এটি “বিপ্লবী বাস্তববাদের” কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দৃষ্টিতে, আলোচনা মানে সমঝোতা নয়, বরং সংঘাতকে উচ্চ ব্যয়বহুল ক্ষেত্র থেকে কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা—যেখানে দেশের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয় না। তিনি বলেন, যেসব শত্রু বারবার চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনায় সবসময় শক্ত অবস্থান নিয়ে বসতে হয়। বাস্তবে সামরিক শক্তিই কূটনীতির পেছনের ভিত্তি।
হরমুজ প্রণালি ও নৌ-অবরোধ প্রসঙ্গ
তিনি বলেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সমঝোতা স্বাক্ষরের পরপরই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাধ্যমে যুদ্ধ সমাপ্তি ও নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়—যা ৩০ দিন পর্যন্তও অপেক্ষা করতে হয়নি। এটি সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক শক্তির যৌথ সাফল্যের প্রমাণ।
কলিবফ বলেন, হরমুজ প্রণালিতে পরিষেবা ও ব্যবহার বাবদ কোনো খরচ ছাড়াই চলাচল ৬০ দিনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কারণ এটি উপসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোর অনুরোধে করা হয়েছে। যুদ্ধের কারণে কিছু জাহাজ সেখানে আটকে পড়েছিল।
তিনি জানান, ইরান ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালির নিরাপত্তা ও মাইন অপসারণসহ প্রযুক্তিগত বাধা দূর করবে এবং ৬০ দিন পর্যন্ত কোনো ফি নেবে না।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির পঞ্চম ধারায় ইরান ও ওমানকে একসঙ্গে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও উপকূলীয় দেশগুলোর সার্বভৌম অধিকার অনুযায়ী। অর্থাৎ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ইরান ও ওমান যুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিষয়ে ইরান কখনোই পিছু হটবে না। এটি ইরানের সার্বভৌম জলসীমা এবং যুক্তরাষ্ট্র যেন মিথ্যা প্রচার চালিয়ে বলতে না পারে যে ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে—এটি ইরান কখনোই মেনে নেবে না।#
পার্স টুডে/এমবিএ/১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।