কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আগ্রাসনের জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলোতে সফল আঘাত হানা হয়েছে।
আজ (বৃহস্পতিবার) ভোরে ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনা আইআরজিসির এই বিবৃতিটি প্রকাশ করে। বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, "ইরান ও ইরাকের জনগণের সাম্প্রতিক শোকানুষ্ঠান ও বিশাল জনসমাগম বিশ্ববাসীর সামনে ইসলামী নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আনুগত্য ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। এই ঘটনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্বিগ্ন করে তোলে এবং এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় এবং পূর্বাঞ্চলের দুটি সেতুতে হামলা চালায়। এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে দেওয়া।"
আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়ে বলে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং তা অমীমাংসিত থাকবে না।
আইআরজিসি'র বিবৃতিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
"তোমরা তাদের সাথে লড়াই করো, আল্লাহ তোমাদের হাতে ওদের শাস্তি দেবেন, ওদের লাঞ্ছিত করবেন, ওদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন এবং মুমিনদের মনের ক্ষোভ দূর করবেন।"* (সূরা তাওবাহ: ১৪)
ইরানের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ এবং ইরাকের বীর ও সংগ্রামী জনগণ,
ধন্য আপনারা! হে ঈমানদার, দূরদর্শী ও বিশ্বস্ত জনগোষ্ঠী। সঠিক সময়ে উপস্থিত হয়ে এবং বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন এক জানাজা ও শোকমিছিলের মাধ্যমে আপনারা ঐশী নেতৃত্ব (বেলায়াত)-এর মর্যাদা এবং আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আ.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত মুসলিম নেতা ও জনগণের মধ্যকার গভীর পারস্পরিক ভালোবাসা বিশ্ববাসীর সামনে ফুটিয়ে তুলেছেন। আপনাদের স্লোগানের মাধ্যমে আপনারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, মুসলমানদের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও ‘বেলায়াত-ই ফকিহ’-এর ওপর আঘাত হানার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।
যদিও ইরাকের তীব্র গরমের মধ্যে টানা ২৩ ঘণ্টার এই অভূতপূর্ব ও আবেগঘন শোকমিছিল রাজপ্রাসাদে বসবাসকারী অহংকারী বিশ্বশক্তিগুলোকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। জনগণের এই শক্তি প্রদর্শনে তারা এতটাই দিশেহারা হয়ে পড়েছে যে, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী আমেরিকা সব চুক্তি লঙ্ঘন করে আবারও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় প্রদেশগুলোর বেশ কয়েকটি স্থানে এবং পূর্ব অঞ্চলের দুটি সেতুতে (যা পবিত্র মাশহাদ নগরীর দিকে গেছে) হামলা চালিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের খবরকে আড়াল করা এবং বিশ্ববাসীর নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। কিন্তু তারা এটা ভুলে গেছে যে, এই ধরনের অপরাধ বিশ্ববাসীকে আরও সচেতন করবে এবং ‘বড় শয়তান’ (আমেরিকা)-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে।
ইসলামের বীর যোদ্ধারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই আগ্রাসন কখনোই অনুত্তরিত রাখবে না।
আমেরিকার চুক্তিভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রথম ধাপ হিসেবে, দেশের বিভিন্ন স্থানে শত্রুর হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইআরজিসির নৌ ও অ্যারোস্পেস ফোর্সের যোদ্ধারা এক যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে কুয়েতের ‘আরিফজান’ ও ‘আলী আল-সালেম’ এবং বাহরাইনের ‘জুফায়ের’ ও ‘শেখ ঈসা’—এই দুটি দেশের মার্কিন উপনিবেশবাদী ও দখলদার ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সতর্ক করে দিচ্ছে যে, তারা যদি পুনরায় কোনো আগ্রাসন চালায়, তবে এই অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ইরানের এই বিধ্বংসী ও দাঁতভাঙা জবাব ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
"আর সাহায্য তো কেবল মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।" (সূরা আল-ইমরান: ১২৬)
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)
১৮ তির, ১৪০৫ (ইরানি ক্যালেন্ডার) / ৯ই জুলাই, ২০২৬
পার্সটুডে/এমএআর/৯
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।