আমরা কখনোই শত্রুর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করব না: ইরানে হামাসের প্রতিনিধি
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i161840-আমরা_কখনোই_শত্রুর_কাছে_অস্ত্র_সমর্পণ_করব_না_ইরানে_হামাসের_প্রতিনিধি
পার্সটুডে: ইরানে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিনিধি প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন: "আমরা কখনোই শত্রুর কাছে আমাদের অস্ত্র সমর্পণ করব না।"
(last modified 2026-07-31T12:40:48+00:00 )
জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৮:৩৫ Asia/Dhaka
  • খালেদ কুদুমি
    খালেদ কুদুমি

পার্সটুডে: ইরানে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিনিধি প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন: "আমরা কখনোই শত্রুর কাছে আমাদের অস্ত্র সমর্পণ করব না।"

আইআরআইবি নিউজ এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইরানে হামাসের প্রতিনিধি খালেদ কুদুমি বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের টেলিভিশনের একটি বিশেষ রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় অস্ত্র হচ্ছে প্রতিরোধের একটি বৈধ হাতিয়ার এবং পাশবিক ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

তেহরানে হামাসের প্রতিনিধি বলেন, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী আলোচনার পক্ষে নয় এবং আলোচনাকে বিভ্রান্ত করতে তারা সব ধরনের বাধা সৃষ্টি করে; এমনকি তারা যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত তাদের প্রতিশ্রুতিও মেনে চলে না।

হামাসের যুদ্ধক্ষমতা ও সামরিক শক্তি প্রসঙ্গে কুদুমি বলেন: "আল্লাহর রহমতে, আল-কাসসাম ব্রিগেড এবং অন্যান্য প্রতিরোধ ব্রিগেডের অবস্থা অত্যন্ত চমৎকার। এই বাহিনীগুলো এখনও পূর্ণ প্রস্তুত, শক্তিশালী, সুসজ্জিত, ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান এবং সক্রিয় রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, হামাসকে ধ্বংস করতে ব্যর্থ হওয়া এবং এর শক্তির কারণেই ইসরায়েল এখনও হামাসের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

২০২৩ সালের ‘আল-আকসা ফ্ল্যাড’ বা আল-আকসা তুফান অভিযানকে একটি ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে উল্লেখ করে কুদুমি বলেন, এটি অঞ্চল ও বিশ্বকে একটি নতুন রূপ দিয়েছে এবং পুরো বিশ্বের কাছে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর প্রকৃত চেহারাকে একটি "ঘৃণ্য শিশুহত্যাকারী শাসকগোষ্ঠী" হিসেবে উন্মোচিত করেছে।

বিশ্বজুড়ে জনমতের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে কুদুমি ফিলিস্তিনের প্রতি অমুসলিম ও অনারব জাতিগুলোর সমর্থনের উল্লেখ করেন। তিনি লন্ডনে বিশাল সমাবেশ, আমেরিকায় ছাত্র আন্দোলন এবং ইউরোপীয় সমাজে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর কূটনৈতিক ও নৈতিক পরাজয়ের লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আজ ইসরায়েল "মানবতার শত্রু" হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং এটি অঞ্চল ও বিশ্বের প্রধান উত্তেজনার কারণ। তার মতে, আখ্যান পরিবর্তন এবং জনমতকে প্রভাবিত করা ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আর আজ ইসরায়েল যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি একা হয়ে পড়েছে।

বক্তব্যের আরেক অংশে ইরানের জনগণের প্রতিরোধ এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের ওপর এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে হামাস প্রতিনিধি বলেন, ইরানের জনগণ ভালো করেই বুঝতে পেরেছে যে, তাদের আসল শত্রু এবং ফিলিস্তিনিদের আসল শত্রু একই— অর্থাৎ এই ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনের আদর্শ রক্ষায় এবং প্রতিরোধকে সমর্থনে ইরানের জনগণের অব্যাহত উপস্থিতি একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছে, যা তেহরানকে এক 'শক্তিশালী গাজা'-য় পরিণত করেছে।#

পার্সটুডে/এমএ‌আর/৩১